শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর, দক্ষিন 24 পরগনা: দৃঢ় এবং অবিচল পায়ে চললে একদিন নিশ্চিত ভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। অবশ্যই সে লক্ষ্য হতে হবে সঠিক এবং সদর্থক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামেশ্বরপুরে “আলহেরা একাডেমীর” প্রধান শিক্ষক তথা স্থপতি তৌহিদ আলী মন্ডল ঠিক এই কাজটি করে তার সমবয়সী বা কম বয়সী অথবা বেশি বয়সী মানুষদের এটি প্রমান দিয়ে দিলেন।
আজ ছিল আলহেরা একাডেমী দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার সুনির্মল মজুমদার, সিনেমা এডিটার তাপস চক্রবর্তী, বেসরকারি স্কুল পরিচালন সমিতির অন্যতম কর্ণধার মৃনাল কান্তি মন্ডল, চিত্রপরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার ডা: চন্দন চ্যাটার্জী প্রমুখ। এদিন তৌহিদ আলী মন্ডল সাহিত্য পত্রিকা “আশার আলো” প্রকাশ করলেন। সেই সাথে পত্রিকার নতুন সভাপতি হিসেবে ডা: চন্দন চ্যাটার্জীকে স্বীকৃতি দিলেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, এই গ্রামে আজ থেকে ১০ বছর আগে মাত্র কুড়িটি শিশুকে নিয়ে উপরে খড়ের চাল চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে স্কুলটি শুরু করেছিলেন তৌহিদবাবু। আজ সেই স্কুলের মাথার ওপরে রয়েছে এডবেস্টার এর ছাউনী, চারদিকে ইঁটের দেওয়াল, রয়েছে প্রায় দুইশত ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষিকারা সবাই এই গ্রামের মহিলা। এ যেন ঘর থেকেই শিক্ষার আলো সমাজের চারদিকে ঠিকরে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক দেখা গেল। সেটি হচ্ছে দর্শক এবং প্রতিযোগীর মধ্যে ৯০%ই ছিলেন মহিলা। ক্রিসমাসের ঠিক পরের দিন এবং বছরের শেষ রবিবার এই ভাবেই আলো ছড়িয়ে গেল সমাজের বুকে। যেন বলল, এই আলোকে আলোকিত হয়ে নতুন দিশা পাক ২০২২ সাল। চিত্রপরিচালক চন্দন বাবু ঘোষণা করলেন যে আগামী বছর প্রথম সপ্তাহে এই গ্রামে একটি চক্ষু পরীক্ষা শিবির এবং বিনামূল্যে চশমা প্রদানের কর্মসূচি আয়োজন করা হবে এত ছাত্রী এবং প্রান্তিক গ্রামবাসীদের জন্য।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিল মিউজিক্যাল চেয়ার। ছোট ছোট শিশুদের এই বিভাগেও তৌহিদ বাবু নিদর্শন রাখলেন “আমরা করবো জয়” গানটি চালিয়ে। গ্রামের নারী-পুরুষের সমবেত হর্ষধ্বনির মাঝে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা উপস্থাপন করলেন সমাজ সচেতনমুলক ছোট নাটিকা এবং আজকের দিনের অন্যতম প্রাসঙ্গিক একটি নৃত্যানুষ্ঠান যার গানটি ছিল “আমরা একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান”।


