গত ৮ জানুয়ারী, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স চোরাচালানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ১৪৮ বোতল ফেনসিডিল সহ একজন চোরাচালানকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। চোরাকারবারী এই সমস্ত ফেনসিডিল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা এলাকা থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল ।
বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সীমা চৌকি ডোবারপাড়া ১৫৮ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার কর্মীরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত বোর্নবেরিয়া গ্রামের কাছে একটি বিশেষ অ্যাম্বুশ মোতায়েন করেছিল। প্রায় ২২৩০ ঘটিকায় অ্যাম্বুশ পার্টি এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে যে দুটি প্লাস্টিকের ব্যাগ (পোটলা) নিয়ে ইছামতি নদীর (আন্তর্জাতিক সীমান্ত) দিকে যাচ্ছিল। অ্যামবুশ জওয়ানরা কোনো সুযোগ না দিয়ে পাচারকারীকে ধরে ফেলে। জওয়ানরা পাচারকারীকে তল্লাশি করলে ব্যাগের ভিতর থেকে ১৪৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য Rs.২৭,৬২৪/- টাকা বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম গোপাল বিশ্বাস, বয়স ২১ বছর, গ্রাম + পোস্ট অফিস – বোর্নবেরিয়া, থানা – গয়াঘাটা, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা (পশ্চিমবঙ্গ)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চোরাকারবারী গোপাল বিশ্বাস জানায়, সে গত পাঁচ বছর যাবত সব ধরনের চোরাচালানের সাথে জড়িত। সে ইছামতি নদীর ধারে বাস করে, যার জন্য তার তস্করির কাজ করতে সুবিধে হয়। সে সময়ে সময়ে বাংলাদেশী গ্রাম পাঁচবুলেট ও পুটখালীর চোরাকারবারিদের সাথে দেখা করতে যায় । সে অভিজিৎ ঘোষ (গ্রাম – মনশতলা, পোস্ট অফিস – বর্নবেড়িয়া, থানা – গাইঘাটা, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা) থেকে এই সমস্ত ফেনসিডিল নিয়েছিল, যেগুলো বিএসএফ ডিউটি লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশী তস্কর কে দিতে হতো। এই কাজের জন্য সে অভিজিৎ ঘোষের কাছ থেকে ২০০০/- টাকা পেত। কিন্তু বিএসএফ এর ডিউটি লাইনের কাছে আসতেই সে ফেনসিডিল সহ বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে ।
গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী ও জব্দকৃত ফেনসিডিল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনসংযোগ আধিকারিক দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার , ১৫৮ ব্যাটালিয়নের কর্মীদের কৃতিত্বের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন যেখানে জওয়ানরা ১৪৮ বোতল ফেনসিডিল সহ ০১ জন চোরাকারবারীকে ধরেছে । তিনি জানান যে এটি কেবল তার কর্তব্যরত জওয়ানদের দেখানো সতর্কতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান যে তাদের এলাকায় কোনো ধরনের চোরাচালান হতে দেবেন না।
