কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বুধবার ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কার (এসভিপি) ২০২১-২২ এর সূচনা করেছেন। সূচনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিদ্যালয়গুলিকে জল, স্যানিটেশন এবং স্বাচ্ছ বিধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ, এগুলি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি, বিদ্যালয় ছুট এবং শিক্ষা গ্রহণের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যালয়ে জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য বিধির ব্যবস্থা একটি স্বাস্থ্যকর বিদ্যালয়ের পরিবেশ তৈরি করে এবং শিশুদের কোভিড-১৯ সহ নানা ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। সরকার জানান, এই স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কার সেইসব বিদ্যালয়গুলিকে অনুপ্রাণিত করে তুলবে এবং স্বীকৃতি এনে দেবে, যারা জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় কাজ করেছে। তিনি বলেন, এই পুরস্কার বিদ্যালয়গুলিতে ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এবং আগামী দিনের দিশা-নির্দেশে সাহায্য করবে।

স্যানিটেশন সম্পর্কে স্ব-অনুপ্রেরণা এবং সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয় শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগ স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কার প্রথম চালু করে। ২০২১-২২ স্বচ্ছ বিদ্যালয় পুরস্কারের জন্য গ্রাম ও শহরের সরকারি, বেসরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলি অংশ নিতে পারবে। একটি অনলাইন পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ৬টি বিভাগে বিদ্যালয়গুলির মূল্যায়ন করা হবে। এগুলি হ’ল – জল, স্যানিটেশন, সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া, পরিচালনা ও রক্ষণা-বেক্ষণ, আচরণগত পরিবর্তন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ও মোকাবিলা। বিদ্যালয়গুলি চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পারবে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পাঁচ তারা রেটিং ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে বিদ্যালয়গুলিকে পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়াও, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিভাগ-ভিত্তিক স্কোর এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক রেটিং দেখিয়ে অংশগ্রহণের জন্য একটি শংসাপত্র পাবে। এই পদক্ষেপ বিদ্যালয়গুলিতে জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যকর বিষয়ে আরও উন্নত পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

জাতীয় স্তরে সামগ্রিকভাবে এ বছর এই পুরস্কারের জন্য ৪০টি বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হবে। বিদ্যালয়গুলির জন্য পুরস্কারের অর্থ এবার ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৬টি বিভাগ-ভিত্তিক পুরস্কার এই প্রথম চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরস্কারের অর্থ ধার্য করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এদিন এই সূচনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব শ্রীমতী অনিতা কারওয়াল এবং সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।