গত ১৬ জানুয়ারী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জোয়ানরা চোরাচালানের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে ওষুধ সহ একজন চোরাচালানকারীকে ধরেছে। চোরাকারবারী এই সমস্ত ওষুধ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টায় ছিল।
ঐ দিন সীমা চৌকি ডোবারপাড়া, ১৫৮ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার কর্মীরা আন্তর্জাতিক সীমান্তে রুটিন ডিউটির সময় তলাশি অভিযান করছিল। বিএসএফ দল একটি সন্দেহজনক বাইক আসতে দেখে। জওয়ানরা অনুসন্ধানের জন্য সেটি থামালে, বাইক আরোহী তাড়াতাড়ি পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু প্রস্তুত জোয়ানরা পাচারকারীকে ধরে ফেলে। জওয়ানরা পাচারকারীকে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে দুটি ছোট ব্যাগের ভিতর থেকে ২২০ প্যাকেট ভিগোর ১০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য ২৫,৫২০/- টাকা। গ্রেফতারকৃত পাচারকারীর নাম অশোক ঘোষ, বয়স ৫৯ বছর, গ্রাম + পোস্ট অফিস – বোর্নবেরিয়া, থানা – গায়ঘাটা, জেলা – উত্তর ২৪ পরগনা (পশ্চিমবঙ্গ)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারী অশোক ঘোষ জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে সাবির মন্ডলের (মন্ডল ড্রাগ হাউস, মতিগঞ্জ, বনগাঁ) সাথে চোরাচালানের কাজ করে। সে আরও জানায় যে ১৬ জানুয়ারি সে বনগাঁর সাবির মন্ডলের থেকে এই সমস্ত ওষুধ নিয়েছিল, যেগুলি বিএসএফ ডিউটি লাইন পার করে সঞ্জিত ঘোষ (গ্রাম + পোস্ট অফিস – বোর্নবেড়িয়া, থানা – গায়ঘাটা) নামে এক চোরাকারবারীর কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। পরে সঞ্জিত ঘোষ এই সব ওষুধ বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের কাছে দিতো। এই কাজের জন্য সে সাবির মণ্ডলের কাছ থেকে ২০০০ টাকা পেত। কিন্তু বিএসএফ ডিউটি লাইনের কাছে পৌঁছতেই বিএসএফ তাকে সব ওষুধসহ ধরে ফেলে।
আটক চোরাকারবারী ও জব্দকৃত ওষুধ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনসংযোগ আধিকারিক, দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার ১৫৮ ব্যাটালিয়নের কর্মীদের কৃতিত্বের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন যেখানে জওয়ানরা ওষুধ সহ ০১ জন চোরাকারবারীকে ধরেছে । তিনি বলেন যে এটি কেবলমাত্র তার কর্তব্যরত জওয়ানদের দেখানো সতর্কতার কারণেই সম্ভব হয়েছে। কর্মকর্তা কঠোর ভাষায় আরো বলেন যে, তারা তাদের এলাকায় কোনো ধরনের চোরাচালান হতে দেবেন না।
