ডিজিটাল; দেবাঞ্জন দাস; ২৫ এপ্রিল: ২৭ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলেন,
‘ সংস্কৃতি জগতের অনেক গুণী মানুষকে আমরা হারিয়েছি। ফিল্মের শুধু অভিনয় করলেই হয় না অভিনয়ের সাথে গানও দরকার হয়। গানের সাথে মাটি দরকার , মাটির সাথে প্রাণ দরকার। প্রাণের সাথে তান দরকার, তানের সাথে সভ্যতা দরকার, সভ্যতার সাথে সংস্কৃতি দরকার। সভ্যতা গড়ে সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতি গড়ে মানবিকতা। মানবিকতার থেকে জন্ম নেয় মনুষ্যত্ব। ফিল্মের এটা একটা বড় কাজ। যদি গান না থাকে তাহলে সেই ফিল্মের প্রাণ পাওয়া যায় না। যদি একটু ড্যান্স না থাকে, একটু রহস্য না থাকে তাহলে অনেক film-maker ভাবে আমার সিনেমা চলবে তো?
আমি যখন জিতলাম লতা মঙ্গেশকর জি আমাকে একটা ছোট্ট মা কালীর লকেট পাঠিয়ে ছিলেন উনার ভাইজির হাত থেকে। আমি উনাকে বঙ্গবিভূষণ দিতে চেয়েছিলাম । তখন ওনার শরীর ভালো ছিল না।
লতাজির বহু গান থাকবে কিন্তু জীবন্ত লতাজি কে পাবনা। মানুষ বেঁচে থাকে তার কৃতির মধ্যে দিয়ে। বাপিদার মনটা খুব বড় ছিল। খুব দুঃখ পাই যখন তাদের কথা মনে পড়ে’ ।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ টেলিফিল্ম আর্থিক দিক এগিয়ে দিচ্ছে । ঘরে ঘরে টেলিভিশন চ্যানেল মানুষ দেখছেন। খুশি হচ্ছেন। বাংলা চলচ্চিত্র ওয়ার্ল্ড বেস্ট। আমরা হয়তো ব্র্যান্ডিং পাইনি । তাই হয়তো আমরা সেই জায়গায় গিয়ে পৌঁছাতে পারিনি। বলিউডকে অ্যাপ্রিশিয়েট করছি তাদের কাছে অনেক টাকা আছে। সেখানে অনেক মানুষ রয়েছে যারা ইনভেস্ট করছে কিন্তু বাংলায় সেটা নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ঘিরে অনেক ইকোনমি তৈরি হয়। অনেক মানুষ দেখেন অনেক মানুষ কাজ পান। অনেক মানুষ কর্ম জগত তৈরি করে ভবিষ্যৎ জগৎ তৈরি করে। ফিল্ম ওয়ার্ল্ড টাকে ইকোনমি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সংযুক্ত করতে হবে। এবং সেই জন্য আমি শত্রুঘ্ন জিকে অনুরোধ করবো।
বাংলায় কি নেই বাংলায় জঙ্গল আছে, পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে ট্যালেন্ট এর অভাব নেই। ট্যালেন্ট এর জন্য খুঁজতে হবে না ট্যালেন্ট রিডিলি এভেলেবেল। আমরা করতে পারবো এটা আমি বিশ্বাস করি। ১০ একর জমির ওপর বারুইপুরে টেলি একাডেমি গড়ে তুলেছি , ১৩২.৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে। এখানে সব রকম মর্ডান ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি হয়েছে। এখানে শুটিং করা যেতে পারে। টালিগঞ্জ অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাধা স্টুডিও কে আমরা সংস্কার করেছি, যা চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবন নামে পরিচিত। যেখানে চলচ্চিত্র চর্চা এবং গবেষণার বিশেষ কেন্দ্র রূপে কাজ হচ্ছে। এটা পূর্বাঞ্চলের প্রথম ফিল্ম আর্কাইভ। এখানে পুরনো ছবির রেস্টোরেশন এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ পুরোদমে চলছে। এর পাশে ছয়তলা বিল্ডিংয়ে পার্মানেন্ট সিনে মিউজিয়াম তৈরি করা হচ্ছে। আনন্দের সাথে জানাচ্ছি চলচ্চিত্র শতবর্ষ ভবনে এবার থেকে চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হলে ওইখানে নিয়মিত সিনেমা দেখানো হবে। ৩৪ কোটি টাকা খরচ করে টেকনিশিয়ান স্টুডিও কে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পাঁচ বছর টেকনিশিয়ান স্টুডিও তে ফ্লোরের কোন ভাড়া বাড়ানো হয়নি।
রাজদের যে কমিটি আছে তারা ইয়ং জেনারেশন তারা সিনিয়রদের ওপেনিয়ন নিয়ে আরো কিছু প্ল্যানিং করবে ।
আমাদের একটা ভুল হয়ে গেছে, আমরা বি জি বি এস এ সমস্ত সেক্টরকে ডাকলাম কিন্তু ফিল্ম সেক্টরকে ডাকতে হয়তো ভুলে গেছি’ । আগামী বছর ফিল্ম এবং টেলিভিশন সেক্টরকে ইনক্লুড করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান।
ছবি: সামাজিক মাধ্যম