নির্বাচন ঘোষণা হবার সাথে সাথেই রাজ্য রাজনীতি বেশ সরগরম। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্নভাবে প্রচারে নেমেছেন।
টালিগঞ্জ বিধানসভা নিয়ে এখন সব জায়গায় চর্চা চলছে। এখানে যেমন দুবারের বিজয়ী বিধায়ক এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস রয়েছে তেমনি বিজেপির পক্ষ থেকে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয়, অন্যদিকে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে অভিনেতা দেবদূত ঘোষ।
একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
নিজের নির্বাচনী প্রচার সারতে বর্তমান বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস বারবার বুঝিয়ে দেন টালিগঞ্জের মানুষ তাকেই চাই। এক জন সভায় তিনি বলেন, “প্রথম যখন আমি টালিগঞ্জের প্রার্থী হয়েছিলাম তখন এখানে এসে দেখেছিলাম এখানকার মানুষ উন্নয়ন চাইছে”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সে উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে বলেই জানান অরূপ বিশ্বাস।
তিনি বলেন বর্তমানে এলাকার মানুষ ৩.২ মিলিয়ান গ্যালন জল পাচ্ছে, আরো প্রকল্পের কাজ চলছে যদি তা সম্পন্ন হয়ে যায় তাহলে এলাকার মানুষ ছয় থেকে আট ঘণ্টা জল পাবেন। ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৮০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন ।
বহিরাগত হিসাবে কিছুটা খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “দমদমের মানুষ টালিগঞ্জের সমস্যা কি বুঝবেন”। নাম না করে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র সম্পর্কে বলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছেড়ে এখানে লড়তে আসুক’।
বর্তমান রাজনীতি যুগে ‘খেলা হবে’ এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা উঠে এসেছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মুখ থেকে। সেই প্রসঙ্গে অরূপ বিশ্বাস বলেন খেলা হবে তা ভাঙ্গা পায়ে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতবে। তার নির্বাচনী প্রচারে উঠে আসে এনআরসি প্রসঙ্গ। তার সঙ্গে তীব্র বিরোধিতা করেন রান্নার গ্যাস এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে। কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।
অরূপ বিশ্বাস বলেন ভারতবর্ষের কেন পৃথিবীর কোন জায়গাতেই বিনামূল্যে রেশনের কোন ব্যবস্থা নেই, এবার যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে বাড়িতে বাড়িতে বিনামূল্যে রেশন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে এছাড়া ১কোটি সবুজ সাথী সাইকেল পেয়েছে পড়ুয়ারা। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপরিকাঠামোর উন্নত হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন প্রকল্প আজ বিশ্বের দরবারে পুরস্কৃত।
টালিগঞ্জের মানুষ বিচার করবেন তারা ভোট কাকে দেবেন, বলেন অরূপ বিশ্বাস।