শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, সমীক্ষা দল, কলকাতা:
স্মৃতির অতল থেকে কোন কিছুই মুছে যায় না। শুধুমাত্র সময় তার উপরে ধুলোর আস্তরণ ফেলে রাখে। কিন্তু স্থান-কাল এবং পাত্র ভেদে স্মৃতি মাঝে মাঝেই আমাদের পীড়া দেয়। তাই আমরা এখনো ভুলতে পারিনি বিবেকানন্দ সেতুর ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা, ভুলতে পারিনি স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ড-আমরির অগ্নিকাণ্ডের কথা।
সারদা-কাণ্ড সাম্প্রতিক ঘটনা হলেও স্থান-কাল-পাত্রভেদে সেই অতীতও কখনো ফিরে আসে। যেমন ফিরে আসে শ্রীরামকৃষ্ণে-স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত বেলুড় মঠ পার্শ্ববর্তী বালি অঞ্চলের মানুষের অতীত স্মৃতি। এলাকার মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি তাদের অতি প্রিয় বালি পুরসভার আর্থিক কেলেঙ্কারির কথা।

২০১৪ সালে ঘটে যাওয়া সেই আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে এই শান্তিপূর্ণ এবং নিরুপদ্রব জায়গায় তোলপাড় হয়েছিল, মানুষের বিশ্বাসে ফাটল ধরেছিল। এখনও মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে, প্রবল বিশ্বাস কিভাবে ঝুর ঝুর করে ঝরে গিয়েছিল সিপিআইএম দলের প্রতি।
বছর ৫৫ বয়সি এক নাগরিকের কাছে আগামী নির্বাচন সম্পর্কে, রাজনৈতিক দল সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তর এলো, ‘বুঝতে পারছি না কিছু। অতীতের খুন-খারাপি, তার সাথে বালি পুরসভার ২১ কোটি টাকা তছরুপের ঘটনা আজও বালি বিধানসভা এলাকার এক কলঙ্কময় অধ্যায়।’
পাশে বসা অন্য একজন মানুষ তার কথা খেই ধরে বললেন, আপনি তো কলকাতার মানুষ, বিজন সেতুর উপরে নিরীহ ১৯ জন সন্ন্যাসীকে হত্যার ঘটনা আপনারা ভুলে গেলেন এত তাড়াতাড়ি? পান্ডুয়াতে সঞ্জীব-তির্থঙ্কর হত্যার ঘটনা রাজ্যবাসী ভোলে কি করে !! নাকি ভুলে গিয়ে আবার সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি করাতে যান?
সেই বালি বিধানসভায় এবারে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বৈশালী ডালমিয়া।
অঞ্চলের মানুষ এক বাক্যে দীর্ঘ দিন ধরে বৈশালী ডালমিয়ার সমাজসেবার কথা আন্তরিকতার সাথে স্মরণ করলেন। লকডাউন এর সময় যেভাবে বালির সমস্ত মানুষের পাশে বৈশালী দাঁড়িয়ে ছিলেন, বালির মানুষেরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে কথা ব্যক্ত করলেন। আর তাই বৈশালীর দৃঢ় বিশ্বাস, পরিবর্তনের লক্ষ্যে বালির মানুষ তার পাশেই থাকবেন। পথপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যুবক বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, বৈশালী ডালমিয়া দল ত্যাগ করেন নি, দল বৈশালীকে শোকজ করায় তিনি এসেছেন পরিবর্তনের লক্ষ্যে তার পুরোনো জায়গা বালিতে।
তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে, বালি বিধানসভা এবারে “পরিবর্তনের উপরে পরিবর্তন” চাইছেন? জানা যাবে ২ মে তারিখে, অপেক্ষায় থাকবো আমরা, অপেক্ষায় থাকবেন নির্বাচনে যারা ওই বিধানসভা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারাও।
তবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করবেন বালি বিধানসভার নাগরিকরা। যারা পছন্দ করবেন তাদের জনপ্রতিনিধি। তিনি তাদের হয়ে কাজ করবেন, নাকি শুধু নিজের এবং দলের স্বার্থে দেখবেন ?
তবে একটা কথা বলাই যায় পুরনো ক্ষতচিহ্ন গুলো বালির মানুষ ভোলেনি সেটা শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলেই বোঝা যাবে। আর তাই কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে থাকবেন বাম-কংগ্রেস মোর্চা সমর্থিত প্রার্থী।
