ওয়েব ডেস্ক; ৪ এপ্রিল : কেন্দ্রীয় জাতীয় হার্বেরিয়াম, ২ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্ল্যান্ট মলিকুলার সিস্টেমেটিক্সের উপর তিন দিনের কর্মশালা-সহ হ্যান্ডস-অন প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিল। এই কর্মশালায় সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ২৪ জন অংশগ্রহণকারী ছিল। এই কর্মশালার উদ্বোধন করেছেন বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ড. এ. এ. মাও, বরিষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. এস.এস. দাশ ও বিজ্ঞানী ড. সি. মুরুগান।
বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ড. এ. এ. মাও, আলোচনার নেতৃত্ব দেন এবং বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের জন্য আণবিক কৌশলগুলিকে গ্রহণ করা এবং ঐতিহ্যগত শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির সাথে সংহত করার গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন৷ এই কর্মশালাটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শেখার এবং ভাবনা আদান প্রদানের মাধ্যম হিসেবেই শুধুমাত্র কাজ করেনি বরং উদ্ভিদ শ্রেণীবিন্যাসের অধ্যয়নে উন্নত পদ্ধতি গ্রহণের জন্য একটি স্পষ্ট আহ্বান হিসেবেও কাজ করেছে।

ড. এস.এস. দাশ, বিজ্ঞানী-এফ এবং ইনচার্জ, কারিগরি বিভাগ বলেন যে, আণবিক শ্রেণীবিন্যাস উদ্ভিদ সনাক্তকরণ কে আরও সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য উপায় সরবরাহ করে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা এবং নতুন উদ্ভিদ প্রজাতির অনুসন্ধানের জন্য অপরিহার্য। ডিএনএ সিকোয়েন্সিং এবং অন্যান্য আণবিক সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করে গবেষকরা ঐতিহ্যগত শ্রেণীবিন্যাস দ্বারা সম্মুখীন কিছু সীমাবদ্ধতাগুলি কাটিয়ে উঠতে পারেন, যেমন বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আকারগত মিল যা ভুল সনাক্তকরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই পদ্ধতিটি ভারতের মতো জীব-বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি দেশে বিশেষভাবে উপকারী, যেখানে সংরক্ষণের প্রচেষ্টা এবং উদ্ভিদ সম্পদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য প্রজাতির সঠিক শনাক্তকরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ডাঃ সি. মুরুগান, বিজ্ঞানী-এফ এবং সদর দফতরের প্রধান, অংশগ্রহণকারীদের সাথে তার মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করেছেন। কর্মশালার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে, ডঃ মুরুগান বর্ণনা করেছেন যে কিভাবে এই বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রশিক্ষণে আমন্ত্রিত ছিলেন ড. , রিতেশ কুমার চৌধুরী, বিজ্ঞানী ই, আগারকার রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যিনি APG IV শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি এবং কীভাবে আণবিক কৌশলগুলি ধীরে ধীরে এনজিওস্পার্ম পরিবারগুলির বিবর্তন কে বুঝতে সাহায্য করছে , সে বিষয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। ড. ডেভিড এল. বেইট বিজ্ঞানী ডি, ইস্টার্ন রিজিওনাল সেন্টার, বিএসআই- শিলং, ডিএনএ নিষ্কাশন এবং আণবিক জীববিজ্ঞানের প্রাথমিক ধাপ নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন । ডঃ অভিষেক ভট্টাচার্য, আণবিক জীববিজ্ঞানের ব্যবহার এবং বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে এটির প্রয়োগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। ড. রঞ্জিত লয়োলা, সমস্ত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন মলিকিউলর মারকারের উপর একটি বিস্তৃত ধারণা দিয়েছেন। ড. ইউ সেন্থিলকুমার, সহকারী প্রফেসর, মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ উদ্ভিদের চারিত্রিক বিবর্তন, জৈব ভূগোল এবং উৎপন্ন আণবিক তথ্যের বিভিন্ন ব্যবহার ও ব্যাখ্যা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। প্রিয়া সিং খুসওয়াহা বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফাইলোজেনেটিক ট্রি উপর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এই আকর্ষণীয় ক্ষেত্রের , বিশেষভাবে উদ্ভিদের নমুনা থেকে ডিএনএ নিষ্কাশন, বিভিন্ন আণবিক মার্করের ব্যবহার যা উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে জেনেটিক বৈচিত্র অধ্যয়ন, পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (PCR) , PCR পণ্য পরিশোধন এবং জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিস ইত্যাদি ব্যবহারিক দিকগুলির উপর আলোকপাত করার কারণে হ্যান্ড-অন ওয়ার্কশপটি উদীয়মান বিজ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ গবেষকদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসাবে দাঁড়িয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা ফাইলোজেনেটিক ট্রি সম্পর্কেও জ্ঞান পেয়েছে, যা তাদের ডিএনএ সিকোয়েন্সের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে বিবর্তনীয় সম্পর্ককে দৃশ্যমানভাবে উপস্থাপন করে। ডিএনএ নিষ্কাশন থেকে শুরু করে ফাইলোজেনেটিক ট্রি নির্মাণ পর্যন্ত এই ব্যাপক পদ্ধতি, উদ্ভিদের জিনগত বৈচিত্র্য এবং বিবর্তনীয় ইতিহাসের অমূল্য অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, যা উদ্ভিদবিদ্যা, সংরক্ষণ এবং জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করে। ডঃ সুদেষ্ণা দত্ত, ডাঃ রঞ্জিত লয়ালা, ফারহিন বানু, এবং প্রিয়া সিং কুশওয়াহা, কর্মশালার ব্যবহারিক দিকগুলিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মান পত্র প্রদান করা হয় এবং তারা কর্মশালা সম্পর্কে অভিমত প্রকাশ করেন। ডাঃ আর কে গুপ্তা, বিজ্ঞানী ই ও কার্যালয় প্রধান, সিএনএইচ, ড. অভিষেক ভট্টাচার্য, বিজ্ঞানী ই ও ওয়ার্কশপ কোঅর্ডিনেটর, ড. কুমার অবিনাশ ভারতী, বিজ্ঞানী ডি, সঞ্জয় কুমার এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।