সদ্যজাত ও শিশুদের সেরা পুষ্টিকর খাবার মায়ের দুধ। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর একমাত্র খাদ্য হওয়া উচিত মায়ের দুধ। জানালেন কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালের কনসালটেন্ট গাইনিকোলগিস্ট ডা. মৌপিয়া চক্রবর্তী।
শিশুর জন্মের পর মায়ের প্রথম যে দুধ নিঃসৃত হয় সেই হালকা হলদে দুধের নাম কোলস্ট্রাম। আগেকার দিনে অনেক সময়েই এই দুধ বাচ্চাকে দেওয়া হত না। কিন্তু ধারণা পাল্টেছে। গবেষণায় দেখা গেছে ‘কোলস্ট্রাম প্রোটিনে ভরপুর। শুধু তাই নয় এই দুধে আছে বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিবডি যেগুলি সদ্যজাতকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া বাজারের কৃত্রিম দুধের সঙ্গে মায়ের দুধের একটি মূলগত পার্থক্য আছে। জন্মের পর থেকে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুর প্রয়োজন অনুসারে মায়ের দুধের উপাদান বদলে যায়। কৃত্রিম দুধে যেটি কখনই সম্ভব নয়।
ব্রেস্টমিল্কে এইসব ছাড়াও ডেকোসাহেক্সোনোয়িক অ্যাসিড নামে একটি বিশেষ ধরণের উপাদান থাকে যেটি শিশুর বুদ্ধির বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মানুষের বিভিন্ন চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধির প্রয়োগে মস্তিস্কের বিকাশ ও সংযোগের নতুন পথ সৃষ্টির জন্যই দরকার এই রাসায়নিকটির। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় মস্তিস্কের এই বিকাশের নাম নিউরোজেনেসিস। দৃষ্টিশক্তি বিকাশের জন্যও উল্লেখযোগ্য ভুমিকা নেয় ব্রেস্টমিল্ক। রেটিনার গঠন ও দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মায়ের দুধই শিশুকে সরবরাহ করে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর নিরিখে আমাদের দেশের স্থান একেবারে প্রথম সারিতে। এই শিশু মৃত্যু রোধ করতে ডায়েরিয়া ও অন্যান্য বহু অসুখ থেকে বাঁচতে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে মায়ের দুধ। সেইজন্য শরীরে পুষ্টি ও শক্তি জোগাতে ও নীরোগ জীবন ও সুস্থ শরীর গড়তে শিশুকে একমাত্র মায়ের দুধই খাওয়ানো উচিত।
তবে জন্মের পরে অনেক মা যেমন সন্তানকে দুধ খাওয়াতে চান না বা পারেন না, অন্যদিকে সন্তানও মায়ের দুধ টেনে খাবার কষ্ট স্বীকার করতে চায়ে না। এই বিষয়ে সাহায্য করতে বিদেশের মতো কলম্বিয়া এশিয়া হাসপাতালেও সদ্য মায়েদের বিশেষ ভাবে সাহায্য করা হয়। সদ্য মায়েদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করেন হাসপাতালের ল্যাকটেশন নার্স সায়ন্তী নাগচৌধুরী। এই সব মায়েদের জানান হয় স্তন্যপান শুধু শিশুর নয়, মায়েদের জন্যও ভালো। নিয়মিত স্তন্যপান করালে বাচ্চা হবার পর জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। স্তন্যপান করানোর সঙ্গে মায়েদের চেহারা খারাপ হবার কোন সম্পর্ক নেই। সায়ন্তী জানালেন, আজকাল সিজারিয়ান ডেলিভারির পরে ব্যথায়ে কাতর অনেক মা শিশুকে স্তন্যপান করাতে চান না। এদের শিশুকে জন্মের আগে থেকে এ বিষয়ে কাউন্সিলিং করানো জরুরী। কারন সদ্যজাত শিশুর পাকস্থলি খুব ছোটো, একটু খেলেই পেট ভরে যায়। তাই সদ্যোজাতকে প্রথম থেকেই মায়ের দুধে অভ্যস্ত করা জরুরী। কারন শিশু একবার বোতলের দুধ খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর মায়ের দুধ খেতে চায় না। সেইজন্য সদ্যোজাতকে প্রথম থেকেই মায়ের দুধে অভ্যস্ত করান উচিত।
হেল্পলাইন: ০৩৩ ৩৯৮৯৮৯৬৯
(ম্যাগাজিনে পূর্ব প্রকাশিত )
