গত ৫ ই ফেব্রুয়ারী দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তর বর্ডার চৌকি গুমটী ১১৮ ব্যাটালিয়নের কর্মীরা তাদের দায়িত্বের এলাকা থেকে ২ জন বাংলাদেশী পাচারকারীকে ৬.২ কেজি গাঁজা এবং ৪৩,০০০/- বাংলাদেশী মুদ্রা সহ গ্রেপ্তার করেছে। এই চোরাকারবারীরা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এলাকা থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছিল।

তথ্যের ভিত্তিতে, বর্ডার চৌকি গুমটি, ১১৮ ব্যাটালিয়ন, সেক্টর কলকাতার কর্মীরা ডিউটির সময় দুজন সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে ধরে ফেলে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ৬.২ কেজি গাঁজা, ৪৩ হাজার বাংলাদেশি মুদ্রা ও কিছু ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা জানায়, এই জিনিসগুলো তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। জব্দকৃত সামগ্রীর মোট মূল্য ১,৩৬,১৫৮/- টাকা।

গ্রেফতারকৃত চোরাকারবারীরা হল- সফিকুল ইসলাম, বয়স ২৭ বছর, পিতা ইনায়েত আলী, গ্রাম নলতাশরীফ, থানা কালিগঞ্জ, জেলা সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ এবং সাদ্দাম সরদার, বয়স ৩০ বছর, পিতা লতিফ সরদার, গ্রাম সাপাড়া, থানা পাইকগাছা, জেলা খুলনা, বাংলাদেশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সফিকুল ইসলাম জানায়, সে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। সে জানায়, লকডাউনের আগে সে ভুমরা সীমান্ত থেকে পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল তার ভাই মুকুল ইসলাম, বয়স ২৫ বছর এর সঙ্গে দেখা করতে। মুকুল ইসলাম প্রায় ১০ বছর ধরে বসিরহাটের ভেবরা রেলস্টেশনের কাছে বসবাস করছে। সে জানায়, ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর সে আবার বাংলাদেশে ফিরে যান। সে জানায়, ৩ মাস আগে কৈখালী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে কাজের সন্ধানে আসে। সীমান্ত পার হওয়ার জন্য সে বাংলাদেশী দালাল লতিফ গ্রাম কৈখালী, শ্যাম নগর, বাংলাদেশ কে ৮০০০/- টাকা দিয়েছিল। ভারতে আসার পর সে তামিলনাড়ুর পেমানচুড়ায় যায় এবং সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। সে জানায় এই কাজটি তাকে বাংলাদেশি ঠিকাদার জয়ন্তী, গ্রাম কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ যুগিয়ে দিয়েছে। সে জানায়, আজ ভারতীয় টাকা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে ভারতীয় দালাল মুজিবুরের সহায়তায় বসিরহাট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিল। এই কাজের জন্য সে ওই দালালকে ৭,০০০/- টাকা দিয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদাম সরদার জানায় সে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। ১০ বছর আগে সে বাংলাদেশী দালাল রুলবাড়ী, গ্রাম নওবাকা, থানা শ্যাম নগর, জেলা সাতক্ষীরা, বাংলাদেশ এর সহায়তায় ভূপুরা সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে ভারতে আসে। সে জানায়, এই কাজের জন্য সে একজন বাংলাদেশি দালালকে ১০,০০০/- টাকা দিয়েছে। ভারতে আসার পর সে নাগের বাজার, দম দম বিমানবন্দর এলাকায় চলে যায় এবং সেখানে ঝাড়ুদারের কাজ করে। সে জানায়, এই কাজটি তাকে প্রকাশ, দম দম নামে এক ব্যক্তি দিয়েছিল। সে আরও জানায়, দমদম এলাকায় প্রায় ৭০০ বাংলাদেশি বসবাস করে। সে জানায়, দম দম শহরে থাকার সময় সে দম দম এলাকায় বসবাসকারী ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী আমিনা খাতুনকে বিয়ে করে। আজ সে ভারতীয় দালাল জাকির হোসেন, পিতা জলিল তরফদার, গ্রাম উত্তর গোবিন্দ কাটি পূর্বপাড়া, থানা হিঙ্গলগঞ্জ, জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনার সহায়তায় ধামাখালি, মোল্লাপাড়া, যোগেশগঞ্জ হয়ে গুমটী সীমান্তে পৌঁছেছে। এই কাজের জন্য সে দালালকে ১০,০০০/- টাকা দিয়েছিল।

আটককৃতদের বাজেয়াপ্ত মালামালসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হিঙ্গলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাবলিক রিলেশন অফিসার, সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন যে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। অফিসার কঠোর ভাষায় বলেন যে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কোন অবস্থাতেই চোরাচালান হতে দেবে না।