নদিয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীনে সীমান্তরক্ষী বাহিনী একজন বাংলাদেশী মেয়েকে মানব পাচারকারীদের খপ্পর থেকে মুক্ত করার পাশাপাশি দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে।

বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর ০৮ ব্যাটালিয়ন, সীমান্ত চৌকি সুন্দর এর জওয়ানরা একটি বিশেষ অভিযানে তিনজনকে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করার সময় গ্রেফতার করে।

যাদের পরিচয় নিম্নরূপ ১) আলমগীর হুসেন বয়স ২৫ বছর, পিতা- মোহাম্মদ চাঁদমিয়া, গ্রাম- খিলগাঁও, জেলা- ঢাকা, বাংলাদেশ,
২) রিজা আক্তার (কাল্পনিক নাম), বয়স ১৭ বছর, জেলা – নরসিংরী(ঢাকা), বাংলাদেশ
৩) প্রসানজিৎ রায়, বয়স ২৬ বছর, গ্রাম -শ্রীরামপুর, জেলা- নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ।

জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হুসেন জানায় যে তার বান্ধবী (সাথী আক্তার) ঢাকায় পতিতাবৃত্তির কাজ করে এবং সাথী আক্তারের বন্ধু রোমানা মানব পাচারের কাজ করে। রোমানা ও সাথী আক্তারের নির্দেশে আলমগীর হুসেন রিজা আক্তারকে (কাল্পনিক নাম) ভারতে ছাড়তে আসে। আর এর জন্য তার বান্ধবী সাথী আখতার বাংলাদেশি দালাল মোমিনকে (গ্রাম – মহেশপুর, বাংলাদেশ)
৩০ হাজার টাকা দিয়েছিল।

রিজা আক্তার (কাল্পনিক নাম) জানিয়েছে যে সে একজন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে । কিছুদিন আগে তার সাথী আখতার নামে একটি মেয়ের সাথে যোগাযোগ হয় , যে ঢাকায় পতিতাবৃতির কাজ করে এবং তার বন্ধু রোমানা যে বাংলাদেশী, কিন্তু সে তার স্বামীর সাথে হায়দরাবাদে থাকে। যে রিজা আক্তারকে ( কাল্পনিক নাম) ভারতে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। সে আরও বলে যে সে সাথী আখতারের সাহায্যে ভারতে রোমানার কাছে যাচ্ছিল যাতে সে কিছু কাজ করে ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারে।
এ ছাড়া প্রসানজিৎ রায় বলে যে তার কাকাতো ভাই যোগা রায় গত পাঁচ বছর ধরে মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে সাহায্য করে আসছে এবং সেই লোকদের তার বাড়িতে আশ্রয়ও দেয়। আজ সে বাংলাদেশী দালাল মোমিনের কাছ থেকে দুইজন বাংলাদেশী নাগরিক এনেছে এবং মোমিন তাকে ৫০০০/- টাকা দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃত সকলকে থানা হংসখালীতে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ মানব ট্রাফিক বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ অধিকর্তা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং মানব পাচার রোধে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার কারণে এই ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা, দালালরা এবং তাদের সহযোগীরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের কেউ কেউ ধরাও পরছে এবং আইন অনুযায়ী তারা শাস্তিও পাচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে দরিদ্র ও অভাবী নিরীহ মেয়েদের ভারতে নিয়ে এসে তাদের ভাল কাজ দেওয়ার অজুহাতে তাদের পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য কাজে ঠেলে দিয়ে তাদের জীবন নষ্ট করে।