গত ১৬ অক্টোবর ২০২১, সীমান্ত মুখ্যালয় দক্ষিণবঙ্গের অধীনে, ১৫৩ ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকি কালুপোটা -১ কে গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছে যে কিছু বাংলাদেশী চোরাচালানকারী ফেনসিডিল পাচারের চেষ্টা করবে এবং এই চোরাচালান যে কোনো সময় ঘটতে পারে। বিএসএফের সতর্ক এবং সাহসী জোয়ান সেই সুবাদে তাদের এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়ে দেয়। বিকেল ৫ টা ১৫ মিনিটে তারা বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে কিছু সন্দেহভাজনদের গতিবিধি লক্ষ্য করে। এই চোরাচালানীরা আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার কাছে একটি মাছের পুকুরে ফেনসিডিল একত্র করছে। চোরাচালানকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০-১২ জন এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল বিপুল পরিমাণে (ভারত থেকে বাংলাদেশে) ফেনসিডিল পাচার করা। কিন্তু বি এস এফ্ এর সাহসী জওয়ানদের সতর্কতার সামনে চোরাচালানকারীদের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে গেল। বিএসএফ কর্মীরা মাছের পুকুরটিকে পুরোপুরি ঘিরে ফেলে এবং জোয়ানরা যখন চোরাচালানীদের চ্যালেঞ্জ করে, তখন কিছু চরাচালানকারী বিএসএফ জওয়ানদের পাথর দিয়ে আক্রমণ করে। কিন্তু বিএসএফ জওয়ানরা তাদের ধাওয়া করে এবং ০৬ বাংলাদেশী পাচারকারী, যারা পুকুরে লুকিয়ে ছিল, তাদের জলের ভিতর থেকে খোঁজ করে গ্রেফতার করে। সেই সময় তারা জোয়ানদের উপর ডান্ডা দিয়ে হামলা করে। যাতে ০২ জওয়ান এবং চরাচালানিদের শারীরিক চোট লাগে। ঘায়েল জওয়ান এবং চরাচালানিদের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।
গ্রেফতারের পর, এলাকায় পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালানো হয় এবং ২৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৫০,০০০/- টাকা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ
১) লিটন গাজী, বয়স – ২০ বছর, পিতা- আবদুল মাসিদ গাজী
২) গোলাম মোস্তফা, বয়স – ৩২ বছর, পিতা -আবদুল কাসিম গাজী
৩) বাবু গাজী, বয়স – ৩৩ বছর, পিতা – গুলাম রসুল গাজী
৪) রফিকুল মোরোল, বয়স – ৩০ বছর, পিতা -গফর মরোল
৫) বকুল মরোল, বয়স – ২৩ বছর, পিতা- মোজাফফর মরোল,
৬) রবিকুল ইসলাম, বয়স – ২৩ বছর, পিতা- রাজাবুল ইসলাম বলে প্রকাশ করেছে।
তারা সবাই সাতক্ষীরা বাংলাদেশের বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, বাংলাদেশী চোরাচালানীরা জানায় যে, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর, তারা ভারতীয় চোরাচালানকারী শাবির মুল্লার (গ্রাম- পাকিডাঙ্গা, ডাকঘর- ইটিন্দা, থানা-বসিরহাট, জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা) সঙ্গে ফেনসিডিল পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। তারা সবাই আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ভারতীয় সীমান্তে পৌঁছেছিল কিন্তু ফেনসিডিল নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার আগেই বিএসএফ তাদের সবাইকে ফেন্সিডিল সহ ধরে ফেলে।

বিএসএফ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত সকল বাংলাদেশী চোরাচালানকারী এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বসিরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএসএফের মুখপাত্র কড়া ভাষায় বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এটাও বলেছেন যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।