বি এস এফ দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার ১৫ জানুয়ারী ২০২১-এ সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিট মোতায়েন করেছিল। মানব পাচারে পিড়িত ব্যাক্তি দের উদ্ধার করতে এবং দালালদের ধরতে ওই ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারী, ২০২২ এ, মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিট তার ১ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিয়োজিত মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিট (অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট) গত বছর ২০২১ সালের ১২ মাসের ২৯ টি ঘটনায় ৩৩ জন পিড়িত ব্যাক্তি (২৮ নারী ও ৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে) কে মানব পাচারের অবৈধ ব্যবসা থেকে বাঁচিয়েছে, সেই সহ ৩৩ জন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিট মোতায়েন হওয়ার পর মানব পাচারের ঘটনা নগণ্য হলেও নির্মূল হয়নি। মানব পাচারের ঘটনার মূলোৎপাটনের জন্য দালালদের (ক্রেতাদের) কারাগারের আড়ালে দাঁড় করানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি দরিদ্র ও নিরপরাধ মেয়েদের মানব পাচারের জঘন্য কাজ সম্পর্কে সচেতন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যাতে কোনো মেয়ে এসব মানব পাচারকারীদের শিকার হতে না পারে।

বিএসএফের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে গরিব মহিলাদের বিউটি পার্লার, বার ড্যান্সার, জিম হেলপার, ম্যাসাজ পার্লার, ওয়েটারের কাজ, বাড়ির কাজের মেয়ে ইত্যাদির মতো ভাল কাজ দেওয়ার নাম করে যৌন কর্মীর মতো অমানবিক ব্যবসায় নিক্ষিপ্ত করা হয় এবং দালালরা এর ফায়দা নেয় ।

এন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট কি?

বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট, যেটি আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থান করে মানব পাচার বন্ধ করার চেষ্টা করছে। দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দ্বারা ১৫ জানুয়ারী, ২০২১-এ সীমান্ত এলাকায় মানব পাচারের জঘন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে এটি মোতায়েন করা হয়েছিল।

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সিনিয়র মুখপাত্র ও ডিআইজি সুরজিৎ সিং গুলেরিয়া বলেন, প্রায়ই দেখা যায় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালালরা ভালো চাকরি ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশের দরিদ্র ও অসহায় মেয়েদের সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নিয়ে আসে এবং এখানে পতিতাবৃত্তির মত জঘন্য কাজে লাগিয়ে দেয়। আজকাল বিএসএফ সীমান্তে মানব পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে । দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে সব ব্যাটালিয়ন সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের মূল উদ্দেশ্য হলো মানব পাচারের সাথে জড়িত সকল সিন্ডিকেটকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে তুলে দেওয়া এবং কারাগারে পাঠানো।