ডিজিটাল ডেস্ক; ১ মার্চ: আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবাসীর মানসিক ও সামাজিক মূল্যবোধের কথা মাথায় রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। বলা হয় মানবতার ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। এই রকম একটি সংবেদনশীল পর্ব গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সামনে আসে যখন নদীয়া জেলার একটি সীমান্ত গ্রাম মাটিয়ারির বাসিন্দা শরিফুল মন্ডল ৫৪ তম ব্যাটালিয়ন , সীমান্ত ফাঁড়ি মাটিয়ারির কোম্পানি কমান্ডারকে জানান যে তার মা (খাদিজা মন্ডল) মারা গেছেন এবং তার তিন বোন বাংলাদেশে থাকেন। তিনি আরও বিনীতভাবে অনুরোধ করেন যে তার বোনেরা যদি তাদের মায়ের শেষ দর্শন পায় তবে তারা খুব খুশি হবে।

দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনী মানবতার ধর্ম পালন করেছে

কোম্পানী কমান্ডার ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে তার মানবিকতা ও অনুভূতিশীলতার কারণে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের অফিসারের সাথে যোগাযোগ করেন। পারস্পরিক সহযোগিতার কথা মাথায় রেখে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জিরো লাইনে মায়ের অন্তিম দর্শন করান তিন কন্যাকে।

উভয় পক্ষের পরিবার বিএসএফের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে

তিন কন্যা যখন মায়ের শেষ দর্শন করেন, তখন সেখানকার পরিবেশ খুবই শোকাবহ হয়ে ওঠে। শেষ দর্শনের পর কন্যারা ও পুত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের মানবিকতার কারণে আমরা মায়ের শেষ দেখা পেয়েছি। সেখানে উপস্থিত সকলের মন খারাপ হয়ে যায় যখন তিন কন্যা বলেন, আজ যদি আমরা দর্শন করতে না পারতাম, তাহলে সারাজীবন নিজেদের ক্ষমা করতে পারতাম না।

বিএসএফ সর্বদা সামাজিক মূল্যবোধের যত্ন নেয়

দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক এবং ডিআইজি সুরজিত সিং গুলেরিয়া বলেছেন যে বিএসএফ জওয়ানরা দিনরাত সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে এবং সীমান্তের নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্তের বাসিন্দাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের খেয়াল রাখে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ভুল উদ্দেশ্য নিয়ে থাকা লোকেদের বিরুদ্ধে কিন্তু বিএসএফ যে কোনো মানবিক কাজে সদা প্রস্তুত থাকে।