ওয়েব ডেস্ক; ২৪ জুন: ভারতে প্রতি চার মিনিটে কেউ না কেউ পথ দুর্ঘটনায় মারা যায়। এ এমন এক সংকট যা আমরা মেনে নিয়েছি। পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা হিংস্র অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ বা প্রাকৃতিক দুর্ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এ নিয়ে সবাই নীরব।

ভারতের সবচেয়ে বড় ফুল-স্ট্যাক অটো-টেক প্ল্যাটফর্ম কার্স২৪ এতে পরিবর্তন আনতে লঞ্চ করল ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া। এটি একটি মিশনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা, যার একমাত্র, উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য হল: ২০৪০ সালের মধ্যে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা।

কোম্পানি ইতিমধ্যেই পাঁচটি জরুরি ক্ষেত্রেই ভিত গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে: ডেটা পরিকাঠামো, নীতি সংস্কার, রাস্তার ডিজাইন, প্রযুক্তি ও আচরণগত বদল।

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু আসলে দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আসলে ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পথ দুর্ঘটনায় সারা পৃথিবীতে যত মৃত্যু হয় তার প্রায় ১১% হয় ভারতে। এটিই সর্বোচ্চ। এগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ভেঙে পড়া পরিকাঠামো, খাপছাড়া নিয়মকানুন, আইন প্রয়োগে শৈথিল্য এবং বহু বছরের সংবেদনহীনতার ফল।

ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া এই সমস্যার সমাধানে কাজ করবে সিস্টেমস-থিংকিং লেন্স দিয়ে, সমস্ত ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি, বড় আকারে করার মত সমাধান তৈরি করে:

● ক্র্যাশ ডেটা পরিকাঠামো: ভারতের সবচেয়ে বড় খোলামেলা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার: ব্ল্যাকস্পটগুলির ম্যাপিং, অতি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলি আন্দাজ করা এবং সাধারণ মানুষ ও সরকারের ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত যন্ত্রপাতি তৈরি করা।

● নীতি উদ্ভাবন: পরিবহণ বিভাগ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শাস্তি দেওয়ার নীতি থেকে সরিয়ে প্রতিরোধমূলক, প্রয়োগযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে সরিয়ে আনার জন্যে কাজ করা।

● মানুষকেন্দ্রিক রাস্তার ডিজাইন: পৌর সংস্থা এবং শহুরে ডিজাইনারদের সঙ্গে মিলে ত্রুটিপূর্ণ সেইসব লেআউট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সিদ্ধান্তগুলির সংশোধন, যেগুলি নীরবে বহু মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

● বড় আকারের আচরণগত পরিবর্তন: অপরাধবোধ, ভয় বা নাম কা ওয়াস্তে কাজের উপর নয়, আচরণবাদী বিজ্ঞান এবং গল্প বলার উপর ভিত্তি করে একেবারে তলা থেকে হাইপার-লোকাল ক্যাম্পেন চালানো।

● নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তি ও প্রোডাক্ট: ক্রাউড-সোর্সড ক্র্যাশ রিপোর্টিং রিয়েল-টাইম অ্যালার্টের জন্যে ওপেন API ও ডিজিটাল টুল তৈরি করা এবং তার সেফটি স্কোরকে গাড়ির ফের বিক্রি, ফাইন্যান্সিং এবং ফ্লিট অপারেশনে ইন্টিগ্রেট করা।

গুড সামারিটানদের স্বীকৃতি দেওয়া
ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া ভারতের গুড সামারিটান ল-কেও তুলে ধরবে। এই আইন সেইসব পথচারীদের সুরক্ষা দেয় যাঁরা পথ দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্য করে। আইনি সুরক্ষা থাকলেও সেই সম্পর্কে সচেতনতা এবং বিশ্বাসের অভাব আছে। এই অলাভজনক সংস্থা আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস তৈরি করবে, প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণে উৎসাহ দেবে এবং সেইসব ব্যক্তিকে স্বীকৃতি দেবে, যাঁরা গুরুতর মুহূর্তে এগিয়ে আসেন, দ্বিধা করার বদলে কাজ করেন।

এ কেবল কোনো ব্র্যান্ড বিশ্বাস নয়, জাতীয় অপরিহার্যতা
কার্স২৪-এর জন্য ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া হল তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ। ‘বেটার ড্রাইভস, বেটার লাইভস’ হল একটি বিশ্বাস, যা বলে যে গাড়ির মালিকানা কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলে চলবে না, তাতে দায়িত্ববোধ এবং নিরাপত্তাও থাকতে হবে।

বিক্রম চোপড়া, সিইও এবং কো-ফাউন্ডার, কার্স২৪, বললেন “আমরা এমন একটা কোম্পানি গড়ে তুলেছি যা ভারতে গাড়ির মালিকানার প্রায় সব দিককে ছুঁয়ে যায়। কিন্তু আমরা যদি কেবল কেনাবেচায় থেমে যাই, তাহলে আসল কাজটা হবে না।”

ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া হল আজ পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজি। এই বাজি ধরেছি আরও ভাল ব্যবসা করতে নয়, আরও ভাল ভারত গড়ে তুলতে। এমন এক ভারত যেখানে কোনো বাবা-মা বেশি জোরে গাড়ি চালানোর জন্যে, কোনো মাতাল ড্রাইভারের জন্যে বা সিগনাল ভাঙার জন্যে কোনো সন্তানকে হারাবেন না। আমরা হয়ত ঝট করে পথ দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে পারব না। কিন্তু সেদিকে এগোনোর কাজ থামাব না।”

পথ নিরাপত্তার সেরা ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি
ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া চালাচ্ছে ভিশন জিরো ট্রাস্ট আর পরামর্শ দিচ্ছেন পথ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অমর শ্রীবাস্তব আর দীপাংশু গুপ্ত, ভারতের সবচেয়ে বড় যুবক-যুবতীদের নেতৃত্বাধীন পথ নিরাপত্তা আন্দোলন ইন্ডিয়ান রোড সেফটি কাউন্সিল (IRSC)-এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা। নীতি এবং তৃণমূল স্তরে সমাবেশ করার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা পরিকাঠামো, আইন প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের আচরণের মত মূল বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করবে। লক্ষ্য সহজ: খাপছাড়া সমাধানগুলির জায়গায় এমন দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যা কাজে দেয়।

যৌথ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্যে খোলাখুলি আহ্বান
ক্র্যাশফ্রি ইন্ডিয়া এখন লাইভ এবং সরকার, এনজিও, স্টার্টআপ, থিংক ট্যাংক, নগর পরিকল্পনাকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেইসব নাগরিকদের সঙ্গে মিলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাইছে যাঁরা বিশ্বাস করেন যে পথ নিরাপত্তার জাতীয় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।