ডিজিটাল; ৩১ অক্টোবর: কোভিডের ঝড় থেমে গেলেও অন্যান্য ভাইরাসের দাপটে পৃথিবী আবার পুরোপুরি শান্ত হতে পারেনি। ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো এত ব্যাপক না হলেও কখনো কখনো চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রভাবে জ্বরের কথাও শোনা যাচ্ছে। চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে আমাদের সচেতন করলেন উডল্যান্ডস হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. সৌতিক পান্ডা।
চিকনগুনিয়ার প্রথম ও প্রধান উপসর্গ জ্বর এবং আরো জ্বর। এটি একটি পতঙ্গ বাহিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক মশা এডিস ইজিপ্টা চিকনগুনিয়ার ভাইরাসকেও বহন করে রোগ ছড়াতে সাহায্য করে। তাই বিভিন্ন জ্বর থেকে বাঁচতে একদিকে যেমন আমাদের মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষা করতে হবে অন্যদিকে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে হবে।
চিকনগুনিয়ার উপসর্গ:
জ্বর বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একশ এক ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার উপরে থাকে।
অত্যন্ত মাথার যন্ত্রনা করে।
অতিরিক্ত ক্লান্তিতে শরীর ভেঙ্গে পড়ে।
খিধে একেবারে কমে যায়, বমিভাব থাকতে পারে কারোর কারোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বমি হতেও দেখা যায়।
হাতে , পায়ে, পিঠে লাল র্যাশ বেরতে পারে।
শরীরে জলের ভাগ কমে যায় বলে রোগী সারাদিন ঝিমতে থাকে।
হাত বা পায়ের আঙ্গুলের জয়েন্টগুলিতে খুব ব্যথা হতে পারে। অনেক সময়ে ব্যথায় এগুলি ফুলে ওঠে। একই সমস্যা হাতের কব্জি কনুই, পায়ের পাতা বা গোড়ালির মতো ছোট অস্থিসন্ধিগুলিতে হতে পারে।
চিকিৎসা:
জ্বরের সময়ে রক্ত পরীক্ষা করে চিকনগুনিয়া জানা গেলে আতঙ্কিত হবেন না। চিকনগুনিয়ার বিশেষ কোন চিকিৎসা নেই। অন্যান্য জ্বরের মতোই জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বমি হলে বমি কমানর ওষুধ দিয়ে লক্ষনভিত্তিক চিকিৎসা করা হয়। তাই এই অসুখে সাধারণত রোগীকে বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করা হয়। তবে প্রবল জ্বরে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায় বলে রোগী ঝিমিয়ে পড়তে পারে। তাই রোগীকে সবসময়ে নজরে রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে জলপান করানর সঙ্গে সঙ্গে পথ্য হিসাবে স্যুপ, প্রচুর ফল, ফলের রসের মতো তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হবে। সাধারণত জ্বর সাত দিনের মধ্যে সেরে যায় তবে আঙ্গুল বা অন্যান্য গাঁটের ব্যথা আরো কিছদিন থাকতে পারে। তবে ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভালো। তবে এসবের পরেও ডিহাইড্রেশ্ন হলে ঝুঁকি না নিয়ে হাসপাতালে ভ র্তি করাই উচিৎ। তাছাড়া অনেক সময়ে চিকনগুনিয়া থেকে গুলেনবেরি সিনড্রোমের মতো জটিল অসুখের সম্ভাবনা থাকে, তাই চিকনগুনিয়া রোগীকে যথাযথ ভাবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
যোগাযোগঃ 07604075551-55
