কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পুনরায় আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে যে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণে কয়লার যোগান রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে কোন ধরণের ভীতি সম্পূর্ণ অমূলক। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ টন কয়লা মজুত রয়েছে, যা চার দিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। এদিকে, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ৪ কোটি টনের বেশি কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে সরবরাহের উদ্যোগ নিচ্ছে।

কয়লা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন পরিমাণ প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। দৈনিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কয়লার চাহিদা প্রায় ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টন। অন্যদিকে, দৈনিক কয়লা যোগানের পরিমাণ প্রায় ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন। দীর্ঘায়িত বর্ষা মরশুমের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কয়লা সরবরাহ কিছুটা বাধা পেয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কয়লার যোগান চাহিদা অনুযায়ী বাড়ে বা কমে। সেই অনুযায়ী সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও দৈনিক ভিত্তিতে কয়লার যোগান দেয়। তাই, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুত নিয়ে ভীতি সম্পূর্ণ অমূলক। চলতি বছরে দেশে কয়লা সরবরাহ আমদানির পরিমাণকে ছাপিয়ে গেছে।

কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের কয়লা খনি অঞ্চলগুলিতে ভারি বৃষ্টি সত্বেও এবছর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে ২৫৫ মেট্রিক টনের বেশি কয়লা সরবরাহ করা হয়েছে, যা একটি বছরের প্রথমার্ধে সরবরাহের নিরিখে সর্বাধিক। সমস্ত উৎস থেকে মোট কয়লা সরবরাহের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ ১৪ লক্ষ টনের বেশি। এদিকে, বৃষ্টির তীব্রতা খানিকটা হ্রাস পাওয়ায় অক্টোবরের শেষ নাগাদ দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে ১৬ লক্ষ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। তাই আশা করা যায়, চলতি অর্থবর্ষে কয়লা সরবরাহের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছোবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন বহির্ভূত শিল্প সংস্থা যেমন অ্যালুমিনিয়াম, সিমেন্ট, ইস্পাত ক্ষেত্র সহ তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে কোল ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে দৈনিক প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টন কয়লা সরবরাহের মধ্য দিয়ে দেশে কয়লার মজুতজনিত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে প্রতিফলিত হয়।