দেবাঞ্জন দাস, কলকাতা: সারাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে জনসাধারনের কিছুটা হলেও অবহেলার জন্যই এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের আক্রমনাত্মক মনোভাব তা ফুটে উঠেছে। করোনাকালের শুরুতে মানুষ যেভাবে সচেতনভাবে মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহার করত দ্বিতীয় ঢেউ এর আগে কিংবা পরে মাস্ক স্যানিটাইজার সেই রকম ভাবে ব্যবহার মানুষ করছে না। তার ওপর ভ্যাকসিনের আবিষ্কার মানুষকে অনেকটা পরিমাণে নিশ্চিন্ত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে বলা হয়েছে বারবার করে যে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও তার পরেও কিন্তু বিশেষ ভাবে ব্যবহার করতে হবে মাস্ক স্যানিটাইজার এবং তার সঙ্গে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। এর ফলে ভ্যাকসিনেশনের পরেও বিভিন্ন জায়গায় মানুষ কিন্তু আক্রান্ত হচ্ছেন। বঙ্গে এখন ভোট। চলছে মিটিং-মিছিল। মিটিং মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন করোনা গাইডলাইন প্রকাশ করে বলেছিল যে মাস্ক এর ব্যবহার অতি আবশ্যক। কিন্তু কেইবা কার শোনে, মাস্ক ছাড়া মিটিং মিছিল চলছে সর্বত্র।
একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপে। সব রেকর্ড ভেঙে দেশে দৈনিক সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন । এই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কিন্তু এবার থাবা বসিয়েছে প্রথমবারের মতন মানুষের জনজীবনে। বিগত কিছুদিন ধরেই রাস্তাঘাটে মানুষের বিচরণ কমে গিয়েছে। ভোটের জন্য কিছুটা হলেও রাস্তায় বাস অমিল থাকলেও সেখানেও কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ রীতিমতন ভাবে নিজের ছাপ ফেলতে শুরু করেছে। যে পরিমাণ মানুষ বাস কিংবা অটোতে হতো তার সংখ্যা প্রায় কমেছে কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ।
এক অটো চালকের কথায় লকডাউন এর পরে কিছু যাত্রী নিয়ে আমরা অটো চালানো শুরু করলেও পরবর্তীকালে সেই যাত্রীসংখ্যা বিধি-নিষেধ উঠে যায়। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং নিত্য যাতায়াতের মধ্যে অন্যতম যানবাহন অটোকে তারা বেছে নিয়ে। সে ক্ষেত্রে আমাদের রোজকার একটা সম্মানজনক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ এভাবে আবার ধাক্কা দেবে সে কথা আগে ভাবতে পারেন নি তিনি। তিনি আরও জানান নিউ নরমালের সময়ে যে পরিমাণ টাকা আমাদের সারাদিনের রোজগার হত দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফলে তার অর্ধেকের কম টাকা সারাদিনের পর বাড়ি নিয়ে যেতে পারছি।
একই অবস্থা সরকারি এবং বেসরকারি বাসের। সেখানেও কমেছে লোক সংখ্যা। অফিস টাইমে কিছুটা ভিড় হলেও। দিন গড়ানোর সাথে সাথে লোক সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এক সরকারি বাসের কন্ডাক্টরের কথায় সারাদিনে তিনটি ট্রিপ করতে হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় ট্রিপে যে পরিমাণ যাত্রী হয় শেষ ট্রিপে সেই যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে যায়।
যেভাবে করোনা সংক্রমনের হার রাজ্যেও বেড়ে চলেছে তাতে আগামী দিনে রাস্তায় যাত্রীদের সংখ্যায় কতটা প্রভাব পড়বে তা বোঝা যাবে সময় গড়ানোর সাথে সাথেই। যদিও রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে জোর দিচ্ছে। গত সপ্তাহে শেষের দিকে কলকাতাতেও মাস্ক না পরার জন্য বহু পথচারীকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে বিভিন্ন জায়গায় চলছে মানুষকে সচেতন করার কাজ।
প্রশাসনের এই সচেতনতা বৃদ্ধির পরেও কি সাধারণ মানুষের মনে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতা জেগে উঠবে না? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞ মহলের।