প্রায় ১ লক্ষ কোভিড যোদ্ধাকে ৬ রকমের স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার আওতায় ১৮ই জুন একটি ক্র্যাশ কোর্সের সূচনা করা হয়েছে। এই কোর্সে চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত তরল অক্সিজেন পরিবহণের জন্য ২ হাজার ৮০০ গাড়ি চালককেও প্রশিক্ষিত করা হবে। দক্ষতা বিকাশ ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রক কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা কর্মীদের জন্য বিশেষ এই ক্র্যাশ কোর্স শুরু করেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণ করার জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পেশাদারদের বাড়তি চাপ কমানো এবং দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সময়মতো দক্ষ কর্মী সরবরাহ করা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে এই ক্র্যাশ কোর্সের মাধ্যমে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার ফলে তারা কাজের সন্ধান পান। সাধারণভাবে যত্ন করা, বাড়িতে যত্ন করা , জটিল পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে যত্ন করা, নমুনা সংগ্রহ করা, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং চিকিৎসার জন্য সরঞ্জামের ব্যবহার- এই ৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি পাঠক্রমের সময়সীমা ১৪৪ ঘণ্টা থেকে ৩১২ ঘণ্টা।
যারা এই কাজে নতুন যোগদান করবেন তাদের ২১ দিন থিয়োরি ক্লাস করতে হবে। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল, পরীক্ষাগার, নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র ইত্যাদি জায়গায় প্রায় ৯০ দিন হাতেকলমে প্রশিক্ষণ౼ অন দ্য জব ট্রেনিং-এ অংশ নিতে হবে।
যারা এই কাজগুলি আগে থেকেই করেন, তাদের দক্ষতা বাড়াতে এক সপ্তাহের ব্রীজ কোর্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত তরল অক্সিজেন পরিবহণের জন্য ড্রাইভারদের ২১৭ ঘণ্টা বা ২৭ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেসব ড্রাইভার বিপদজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ বা চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত তরল অক্সিজেন পরিবহণ করেন তাঁরা যাতে যথাযথভাবে এই কাজটি করতে পারেন তার জন্যই বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সরকার এই ক্র্যাশ কোর্সের জন্য ২৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। দক্ষতা বিকাশ ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং হোম, নমুনা পরীক্ষাগারগুলিকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে, যাতে এটি সফল হয়।

রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় দক্ষতা ও শিল্পোদ্যোগ মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।