ডিজিটাল; ১৪ মে: ৮ মে শিলিগুড়িগামী একটি বাসে (নং এএস১৯সি-৯৩৭) কিছু বিদেশী প্রাণী পাচার করা হতে পারে এই খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের শুল্ক আয়ুক্তের প্রতিরোধমূলক বিভাগের জলপাইগুড়ি-স্থিত প্রতিরোধ শাখার আধিকারিকরা ময়নাগুড়ি এলাকায় সফর করেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হাইওয়েতে বাসটিকে দেখতে পান।

ময়নাগুড়ি এলাকায় ৯ মে রাত ৩.৩০ নাগাদ বাসটিকে থামানো হয়। বাসে আগাগোড়া তল্লাশি চালিয়ে তিনটি খাঁচায় থাকা চারটি বাঁদর উদ্ধার করা হয়। এগুলি চীন, ব্যাংকে বা অস্ট্রেলিয়া থেকে পাচার করা হয়ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে পাঠানোর জন্যই এগুলি চোরাচালান করা হয়েছে বলে মধারণা করছেন শুল্ক আধিকারিকরা। বাসের নিচের দিকে এই প্রাণীগুলিকে রাখা ছিল। প্রাণীগুলির মালিকের খোঁজ-খবর করলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এরমধ্যে অন্ধকারের সুযোগে বাসচালক এবং খালাসি পালিয়ে যায়। বাসটি যাত্রী ভর্তি ছিল। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে জলপাইগুড়ির শুল্ক আধিকারিকরা একজন স্থানীয় চালককে দিয়ে বাসটি চালিয়ে প্রাণীগুলি নিয়ে শিলিগুড়িতে আসেন।

এরপর শুল্ক আধিকারিকরা শিলিগুড়ির শালুগাড়ায় বেঙ্গল সাফারির উত্তরবঙ্গ অভয়ারণ্যের অধিকর্তার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেইমতো শুল্ক আধিকারিকরা প্রাণীগুলিকে বেঙ্গল সাফারিতে নিয়ে গিয়ে সেখানকার কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন।

বেঙ্গল সাফারির হাতে তুলে দেওয়ার আগে ওই প্রাণীগুলিকে ১৯৬২-র শুল্ক আইনের ১১০ নম্বর ধারায় বাজেয়াপ্ত করা হয়। এগুলির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০,০০,০০০ টাকা বলে (আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করেন বন আধিকারিকরা)। ভারতে বেআইনীভাবে বন্যপ্রাণ আমদানি করার জন্য ১৯৭২-এর বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি ১৯৬২-র শুল্ক আইনের ১১১ ধারা অনুযায়ী এগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এবি য়ে আরও তদন্ত চলছে।