ডিজিটাল; ১৯ অক্টোবর: দীপ শব্দের অর্থ আলো। ইভালি শব্দের অর্থ সারি বদ্ধ। অর্থাৎ সারিবদ্ধ আলো । দীপাবলী মূল শব্দ সংস্কৃত। নেপাল সহ ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দিনটি নতুন বর্ষ হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। রাবণ বধের পর অযোধ্যায় ফিরে আসার দিন হিসেবেও পালিত হয়। অযোধ্যাবাসী রাজার দেশে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাতে ঘরে ঘরে প্রদীপের আলো জ্বালিয়ে বিজয় উৎসব পালন করেছিল। এমনই কথিত পুরাণে। সেই ধারা আজও চলছে।
কলকাতায় রাজস্থানের বহু মানুষ এসেছেন জীবিকার সন্ধানে অনেককাল আগেই। রাজস্থানের এমনই এক সম্প্রদায় মাহেশ্বরী সমাজ। সভ্যতার নিরিখে মাহেশ্বরী সম্প্রদায় বাণিজ্যের জীবিকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রদায়গত ভাবে এঁরা শিবের উপাসক হলেও হিন্দু ধর্মের সব দেবদেবীই এই সম্প্রদায়ের উপাস্য।ভারতের যে প্রান্তেই বসবাস করেছেন এঁরা বাণিজ্যের কারণেই হিসেবনিকেশ করতে শিক্ষাকে এঁরা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বাণিজ্যে সফল বিড়লা গোষ্ঠী মাহেশ্বরী সমাজেরই মানুষ।কলকাতা সহ বিভিন্ন প্রান্তে এঁদের সমাজসেবী সংগঠন আছে। এমন এক সংগঠন পূর্ব কলকাতা মাহেশ্বরী সভা। স্থাপনা ২০০৮ সালে। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এই সংগঠন।সভার সভাপতি হেমন্ত মাদ্রা। পূর্ব কলকাতার মাহেশ্বরী সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন জীবনলাল বাহেতি।
সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির,সম্প্রদায়ের প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বৃত্তি প্রদান ছাড়াও মহিলা উন্নয়ন, সাম্প্রতিক সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সেমিনার,সম্মেলন করা হয়। পালিত হয় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গঙ্গর, হোলি, জন্মাষ্টমী, তিজ ও দীপাবলী সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
দু বছর করোনা পরিস্থিতিতে সমাজের এক বৃহত্তম অংশ মানসিক ভাবে অস্থির হয়ে পড়েন।তাই এই বছর সংগঠন আসন্ন দীপাবলী উৎসব উপলক্ষে পূর্ব কলকাতার একটি ব্যাঙ্কয়েট হলে একটি মিলন সন্ধার আয়োজন করেন।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজন। মারওয়ারি সমাজের জনপ্রিয় শিল্পী রজত বয়েড পরিচালনা করেন আন্তাকসারি ও কুইজ। এই অনুষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সংগঠনের যাঁদের ভূমিকা অগ্রগণ্য তাঁদের মধ্যে আছেন _ গোপাল দামানি, সুরেশ ঝাওয়ার, বি এল রাঠি, ঘনশ্যাম মণিহার, ভগবতী মুন্দ্রা,ঘনশ্যাম ভাইয়া, গোকুল দামানী, শ্রীকিষণ বিনানি, রতন বাহেতি, অঞ্জু ভূত্রা, বর্ষা দাগা ও সুনীতা বাহেতি প্রমুখ।
দীপাবলী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহ্বায়ক রেশমি বিয়ানি ও অভিষেক ভুত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।সংগঠনের সম্পাদক রাজেশ চন্দক করোনা পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্যরা সামাজিক দায়বদ্ধতার যে পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। কোম্পানি সেক্রেটারিজ সংগঠনের ভূতপূর্ব সভানেত্রী মমতা বীনানি বলেন, সারা বছর আমরা এই দীপাবলীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করি। আগামী প্রজন্মের সন্তানদের আমরা দেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পর্কে উৎসাহী করতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করি।




