চন্দন চ্যাটার্জি

‘আসলি পূজা হোতা হ্যায় মনমে। ইতনে হল্লা তো ভুত ভাগানেকে লিয়েহি কিয়া যাতা হ্যায়।’ অর্থাৎ এসব বাদ্যযন্ত্র যা কিছু পুজোর সময় বাজানো হয় তাকে তো ভুত ভাগানোই বলা যায়। আসল পুজো হচ্ছে মনের ধ্যান। তাই তোমাদের এত সব হৈচৈ যে ওঝাদের ভূত ভাগানোর মতোই। নাঙ্গা বাবা ভক্তদের সামনে এই ভাবেই নীরবে পুজো পাঠ করার কথা বলতেন।

উড়িষ্যার পুরী তীর্থের কাছাকাছি গির্ণারী-বন্তার অঞ্চলে নাঙ্গা বাবার আশ্রম অবস্থিত। চারদিকে তাল-তমাল-নারকেল বীথির নীচ দিয়ে জনহীন পথে এগিয়ে গেলে সামনে দেখা যাবে বালিয়াড়ির একটা ঢিপি। এই ঢিপির উপর একটি আশ্রমে থাকতেন মহাসাধক নাঙ্গা বাবা। তিনি জীবিত অবস্থায় এখানে অবস্থান করতেন এবং ভক্তদের বিভিন্ন সময়ে আধ্যাত্বসাধনার নানা ইঙ্গিত তাদেরকে বলতেন।

একবার এক নতুন দর্শনার্থী তার সামনে এসে বসে রয়েছে এবং কাতর চোখে নাঙ্গা বাবার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যতবারই বাবা তাকে যেতে বলছেন, সে হাত জোড় করে আরেকটু বসে থাকার জন্য অনুনয় করতে থাকে ৷ অন্যান্য ভক্তরা ভাবলেন, বাবার সঙ্গ লাভের জন্য ভদ্রলোক লুব্ধ হয়েছেন, শাস্ত্র পাঠ শুনতে চান। কিন্তু বাবা এমন তাগাদা করলেন যে আগন্তুক চলে গেলেন।