শুভাবরি ওয়েব ডেস্ক, ১০ জুলাই, কলকাতা:
যার পায়ের এক সময় সবুজ ঘাসের উপরে বল নাড়াচাড়া করত, মাঠের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াত যে বল পায়ে, কলকাতার প্রথম ডিভিশন ফুটবলে সম্মানের সঙ্গে যে খেলাধুলো করেছে, আজ সে পথের ধারে ছোট্ট একটি নার্সারি করে ফুল ফলের গাছ বিক্রি করছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থানার অন্তর্গত ছোট্ট একটি গ্রামের ছেলে সব্যসাচী মন্ডল। মোহনবাগান অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সদস্য, বেহালা ইউথ, এফ সি আই এর ফুটবলার সব্যসাচী ফুটবলের কোচিং করার জন্য ২০১৯ এ এ আই এফ এ থেকে ‘ডি’ লাইসেন্স নিয়েছেন। ২০০৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন স্রোতে ভাসতে ভাসতে অবশেষে ২০২২ এ গাছের চারা বিক্রির পেশায়। পাশাপাশি চলছে বিজয়গড় কোচিং সেন্টারে কোচ হিসেবে অনুর্ধ ১৬ ছেলেদের ফুটবলের কোচিং করানো কাজ।

তার আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধিনস্ত একটি স্থানীয় কলেজ থেকে বিএ পাস করে সব্যসাচী মন্ডল। আক্ষেপ করে বললেন, ২০০৬ সালে এক বছর ফুটবল খেলেছি ভিভা কেরল ক্লাবে। ভারতবর্ষের নামি ফুটবলারদের সাথে অনেক টুর্নামেন্ট খেলেছি। স্বপ্ন ছিল একজন ফুটবলার হয়ে ওঠা। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কোমরে আঘাত পাই। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় স্বপ্ন। কোন সরকারি অনুদানও জোটেনি আমার কপালে, চাকরি তো অস্ত।

বাংলায় নাকি খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে ফুটবল খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাহলে এই খেলোয়াড় আজ ফুল গাছ বিক্রি করে কেন সংসার চালাচ্ছে? আগেও আমরা প্রকাশ করেছিলাম মহিলা ফুটবলার পূজা কর্মকারের কথা, জাতীয় খেলোয়াড় পম্পা সরকারের কথা।

প্রান্তিক মানুষের এগিয়ে আসার এমন কত স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে তা আমাদের অজানা। তবুও মাঝে মাঝে এমন প্রান্তিক মানুষদের কথা আমাদের সামনে আসলে, কলম শক্ত করে পাঠকের কাছে আমরা পৌঁছে দিই।