ডিজিটাল ডেস্ক; ২১ ফেব্রুয়ারি: দুবাই এক্সপো ২০২০-তে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে খাদ্য, কৃষি ও জীবন-জীবিকা সম্পর্কিত যে পাক্ষিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, তার অঙ্গ হিসেবে ভারতে বাজরা উৎপাদন এবং মূল্য শৃঙ্খল ব্যবস্থায় মানোন্নয়ন সম্পর্কে সম্প্রতি একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এই সেমিনারে সরকারি আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বাজরা উৎপাদন ও তার প্রক্রিয়াকরণে ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছে যে সুযোগ-সুবিধা তৈরি হচ্ছে, সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। সেমিনারে বাজরা রপ্তানির সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ডঃ অভিলক্ষ লিখি বলেন, আমরা স্টার্ট আপ এবং কৃষক উৎপাদক সংগঠনগুলিকে বাজরার মূল্য শৃঙ্খলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে একটি উপযুক্ত কাঠামো গঠনের আহ্বান জানায়, যাতে উৎপাদকদের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভারত সহ ৭০টি দেশের একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক বাজরা বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী বছর আন্তর্জাতিক স্তরে বাজরা বর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্যই হল মোটা জাতীয় এই দানাশস্যের স্বাস্থ্যগত ক্ষেত্রে উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং জলবায়ুর পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত কৃষিকাজ পদ্ধতি গ্রহণ।

মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীমতী শুভা ঠাকুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজরা বর্ষ উপলক্ষে আমরা মোটা জাতীয় দানাশস্য বাজরার পৌষ্টিক উপকারিতা ও মূল্য শৃঙ্খল সম্পর্কে একটি অভিযান গ্রহণের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছি। সেমিনারে নিউট্রিহাব সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডঃ বি দয়াকর রাও বাজরার পৌষ্টিক উপকারিতা সম্পর্কে বলেন, মোটা জাতীয় এই দানাশস্যটির স্বাস্থ্যগত দিক থেকে একাধিক উপকারিতা রয়েছে এবং এই দানাশস্য স্থূলতা ও অপুষ্টি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। বাজরায় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পৌষ্টিক উপাদান রয়েছে, যা মলদ্বারে ক্যান্সার এবং বিভিন্ন ধরণের হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের আর্থিক উপদেষ্টা শ্রী কুন্তল সেনশর্মা এই ক্ষেত্রে নীতিগত কর্ম পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবছর বাজেটে এই ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবং অনুকূল নীতি গ্রহণের দিক থেকে দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর একটি হল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ বা ছোট শিল্প সংস্থা গঠন এবং অন্যটি হল এধরণের শিল্প সংস্থাগুলির জন্য উৎপাদন সংযুক্ত উৎসাহভাতা বা পিএলআই কর্মসূচি শুরু করা।

এই সেমিনারে একাধিক স্টার্ট আপ ও কৃষক উৎপাদক সংগঠন যোগ দিয়ে কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবনমূলক কৌশল প্রদর্শন করে। সেইসঙ্গে বাজরা ভিত্তিক বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যকর খাবার প্রদর্শিত হয়। দুবাই এক্সপো ২০২০-তে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে খাদ্য, কৃষি ও জীবন-জীবিকা সম্পর্কিত যে পাক্ষিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, তা আগামী দোসরা মার্চ শেষ হবে।