সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে জিএসটি বাবদ মোট রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে সিজিএসটি বাবদ ২২ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, এসজিএসটি বাবদ ২৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, আইজিএসটি বাবদ ৫৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা (আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী থেকে সংগৃহীত ২৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা সহ) এবং শুল্ক বাবদ ৭ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা (আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী থেকে সংগৃহীত ৮১৫ কোটি টাকা সহ) সংগ্রহ হয়েছে। জিএসটি রাজস্ব সংগ্রহ সহ উপরোক্ত সংগৃহীত অর্থ পয়লা জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দাখিল করা জিএসটিআর-থ্রি বি রিটার্ন দাখিল থেকে এবং আলোচ্য সময়ে আমদানি থেকে সংগৃহীত আইজিএসটি ও শুল্ক খাতে আয় হয়েছে। গত পয়লা জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল বাবদ যে ৪ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা জিএসটি বাবদ সংগৃহীত হয়েছে, তা পুরো মাসের জিএসটি সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গত জুন মাসে এক প্রেস নোট জারি করে বলা হয়, যেহেতু করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ছাড় দেওয়া হয়েছে তার প্রেক্ষিতে জুন মাসের জিএসটি জুলাই মাসেও মেটানো হয়। অবশ্য, যে সমস্ত করদাতার লেনদেনের পরিমাণ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত, কেবল তাদেরকেই কোভিড মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের দরুণ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় রিটার্ন দাখিলে ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকার সিজিএসটি বাবদ ২৮ হাজার ৮৭ কোটি টাকা এবং এসজিএসটি বাবদ ২৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজ্যগুলির প্রাপ্য বকেয়া মিটিয়ে দিয়েছে। প্রাপ্য বকেয়া মেটানোর পর কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে সিজিএসটি বাবদ রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা এবং এসজিএসটি বাবদ ৫২ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা।

সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ গত বছরের ওই একই মাসের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে পণ্যসামগ্রী আমদানি খাতে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ৩৬ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ লেনদেন খাতে রাজস্বের সংগ্রহের পরিমাণ ৩২ শতাংশ বেড়েছে।

জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ পরপর ৮ মাস ১ লক্ষ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করার পর গত জুন মাসে সংগ্রহের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকার নিচে পৌঁছোয়। গত জুন মাসে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ কম হওয়ার পিছনে যে কারণ রয়েছে তা হল মে মাসের জিএসটি জুন মাসে দাখিল করা হয়। প্রকৃতপক্ষে মে এবং জুন মাসে দেশের অধিকাংশ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আংশিক লকডাউন কার্যকর ছিল। কোভিড লকডাউন জনিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞ জুলাই মাস থেকে ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার দরুণ মাসের শেষে স্বাভাবিক ভাবেই রিটার্ন দাখিলের পরিমাণ বেড়েছে। পক্ষান্তরে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, অর্থ ব্যবস্থা দ্রুত গতিতে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। তাই আশা করা যায় আগামী মাসগুলিতেও জিএসটি রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।