ডিজিটাল; ২৬ আগস্ট : ভারত এবং ব্রিটেনের যৌথ পরামর্শদাতা কমিটি (জেসিসি)সাম্প্রতিক বৈঠকে বাণিজ্যিক আদালতে পরিচালন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি যেমন সালিশি এবং মধ্যস্থতা এসব বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময়ে এবং সর্বোৎকৃষ্ট পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে এক বৃহত্তর সমঝোতাসূত্রে পৌঁছেছে। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, মামলা নিষ্পত্তি এবং সাধারণ আইনী খসড়ার ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার ক্ষেত্রেও সমঝোতা হয়েছে। এর পাশাপাশি, খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলিতে আইনী পরামর্শদাতা, খসড়া প্রস্তুতকারক, আইনী অফিসার, প্রসিকিউটার এবং আইনী পেশাদারিদের বেঁধে দেওয়া সময়ের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ের ঐক্যমত্য হয়েছে।

আইন এবং ন্যায় বিচার নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বিনিময়ের জন্য ২০১৮র ১০ জুলাই ভারত এবং ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতাপত্রের ভিত্তিতে একটি যৌথ পরামর্শদাতা কমিটি (জেসিসি)তৈরি হয়। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পন্থা-পদ্ধতি নিরুপন করাই ছিল এই সমঝোতাপত্রের মূল উদ্দেশ্য। নতুনদিল্লিতে ২০২২এর ১৮ আগস্ট এই যৌথ পরামর্শদাতা কমিটির তৃতীয় মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন আইন সচিব ডঃ নীতেন চন্দ্র। এছাড়া আইন সংক্রান্ত ও ন্যায় বিচার দপ্তরের বরিষ্ট আধিকারিকরা, নালসার সদস্য সচিব এবং নতুনদিল্লিতে ইন্ডিয়ান ল ইন্সটিটিউটের অধিকর্তা ভারতের তরফে এই আলোচনাচক্রে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটেনের তরফে নেতৃত্ব দেন সেখানকার আইন মন্ত্রকের দ্বিতীয় স্থায়ী সচিব ডঃ জো ফারার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেখানকার ন্যায় বিচার মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকরা এবং নতুন দিল্লিতে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত। উভয় নেতাই বৈঠকে সভাপতিত্ব ভাগ করে নেন। ব্রিটেনের আইনী ফার্মগুলিকে ভারতে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে সমঝোতাপত্র হয়েছিল তা নিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে ২০২২এর ১৮ আগস্ট আইনী পরিষেবা কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পূর্ব উল্লিখিত উভয় দেশের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কমিটিতে ভারতীয় বার কাউন্সিলের (বিসিআই) প্রতিনিধিরা এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েল্স-এর আইন সোস্যাইটির প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ভারত এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ‘বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ (ইটিপি)’ নিয়ে ২০২১এর চৌঠা মে যে ভার্চুয়াল শীর্ষ বৈঠক হয়েছিল তার ফলাফলের কথা আইনী পরিষেবা কমিটি স্মরণ করে। ওই শিখর বৈঠকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ভারতে আইনী পরিষেবার ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করা এবং উভয় দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

ভারতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত মহামান্য অ্যালেক্স এলিস এই আইনী পরিষেবা কমিটির আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের আইনী পরিষেবা ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে উভয় পক্ষই বৈঠকে মত বিনিময় করেন। ইংল্যান্ড এবং ওয়েল্সের ল সোস্যাইটির প্রেসিডেন্ট তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে এই বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যম যোগ দেন। তিনি বিস্তারিতভাবে আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেনের নন এমন প্রশিক্ষিত আইনজীবীদের আইনী পরামর্শের বিষয়েও আলোচনা করেন। বিসিআই-এর সচিব আইনজীবীদের অধিকার, সুবিধা এবং স্বার্থের বিষয় সুরক্ষিত রাখার ওপরে গুরুত্ব দেন। যদিও উভয় দেশের প্রতিনিধিরাই দু-দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এই আইনী পরিষেবার ক্ষেত্র উন্মুক্ত হলে পরস্পর লাভবান হবেন বলে জানান। সমস্ত অংশীদাররাই যাতে লাভবান হতে পারেন সে জন্য ঐক্যমত্য এবং যৌথ সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে তাঁরা সম্মত হয়েছেন।