ডিজিটাল; ২৪ আগস্ট: বর্তমানে মৎস্যচাষ প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়নশীল। দেশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক উন্নয়নে এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এটিকে ‘সূর্যোদয়ের ক্ষেত্র’ নামে অভিহিত করা হয়। দেশের ২ কোটি ৮০ লক্ষ মৎস্যজীবীর জীবিকা নির্বাহ ও ১ কোটি ৪৫ লক্ষের কাছাকাছি মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসাবে কাজ করে। দেশের তরুণ উদ্যোগপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় মৎস্যচাষ ক্ষেত্র। প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তরুণ উদ্যোগপতিদের প্রয়োজন।

এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা পিএমএমএসওয়াই মঞ্জুর করে। এটি ভারতের মৎস্য ক্ষেত্রে নীল বিপ্লব আনতে সহায়ক হবে। এই প্রকল্পের সাহায্যে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে ২২০ লক্ষ মেট্রিক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের আওতাধীন প্রযুক্তি উন্নয়ন পর্ষদ (টিডিবি) ইজারয়েলি প্রযুক্তির সহায়তায় অত্যাধুনিকভাবে তেলাপিয়া চাষের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তেলাপিয়া হ’ল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল এবং বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভজনক মাছের অন্যতম। মৎস্যবিদরা তেলাপিয়াকে জলজ চিকেন নামেও অভিহিত করে থাকেন। ভারতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্ণাটকের মুধোলে এই মাছ চাষের যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেখানে বছরে ৫০০ টন তেলাপিয়া উৎপাদন করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। মৎস্য ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৫৫ লক্ষ কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মৎস্য ক্ষেত্রের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে প্রযুক্তি উন্নয়ন পর্ষদ এই প্রকল্পের জন্য ৮ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।