গত দুই দিন ধরে আইসিপি পেট্রাপোলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অচলাবস্থা আজ শেষ হয়েছে এবং অবশেষে ১৯ জানুয়ারী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের আশ্বাসের পরে প্রায় বনগাঁ গুডস ট্রান্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে বিএসএফকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা পরবর্তী ০৪ দিনের মধ্যে পরিবহনকারীদের আইডি কার্ড ইস্যু করবে। ফলে কার্গো কমপ্লেক্সের ভেতরে রাখা আমদানি ট্রাকগুলো ভারতীয় খালি ট্রাকে সামগ্রী খালাস শুরু করেছে। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে আমদানি শুরু হয় এবং এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে রপ্তানিও শুরু হয়।

উল্লেখ্য যে, ১৬-১৭ জানুয়ারী ২০২২ তারিখে, রপ্তানি ও আমদানি পণ্যের চলাচলের আড়ালে বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের সাথে জড়িত ট্রাক চালকদের কালো কাজের পর্দাফাঁস করার তাগিদে আইসিপি পেট্রাপোলে অচানক তদন্ত করার পদক্ষেপ নেয় এবং দুই দিনে ৮২ ট্রাক চালকের কাছ থেকে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করে। এরপর বিএসএফ লাইসেন্সের সত্যতা যাচাই না করে আমদানি-রপ্তানি ট্রাকগুলোকে আইসিপিতে আসতে নিষেধ করে।

বিএসএফ দুই দিনে আটককৃত মোট ৮২টি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স কাস্টমস বিভাগের (শুল্ক) কাছে হস্তান্তর করেছে। এমতাবস্থায় এত বিপুল সংখ্যক ট্রাক চালকের কাছ থেকে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকের পর আইসিপি-পেট্রাপোল থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে এই চেকপোস্টের মাধ্যমে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সর্বাধিক বাণিজ্য হয়। সেই সাথে মানুষের আনাগোনাও হয়ে থাকে। ১৮-১৯ জানুয়ারী ২০২২ তারিখেও, মোট ০৮ জন জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স চালককে ধরা হয়েছে, এইভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে। বিএসএফ-এর তরফে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স সন্দর্ভে পুলিশে এফআইআর করা হচ্ছে।

‘জাল ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালককে কোনো মূল্যে বাংলাদেশে যেতে দেব না” জানিয়েছে বিএসএফ

একই সময়ে, বিএসএফ দক্ষিণ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে ভারতীয় শুল্ক বিভাগ এবং ভারতের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে যে বিএসএফ এমন ট্রাকগুলিকে অনুমতি দিতে পারে না যেগুলির চালকদের জাল লাইসেন্স পাওয়া গেছে। বনগাঁ গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং জড়িত অপরাধীর কঠোরতম শাস্তির দাবি করা হয়েছে।