ডিজিটাল; ২৪জুন: বনস্পতি, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল এবং আরবিডি পামোলিনের পাইকারি ও খুচরো বিক্রয় মূল্য কমেছে। ভোজ্য তেলের দাম কমার সুফল ভারতীয় উপভোক্তারা শীঘ্রই উপলব্ধি করতে পারবেন। এর ফলে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে বলে খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের সচিব শ্রী সুধাংশু পান্ডে আশা প্রকাশ করেন। শ্রী পান্ডে বলেছেন, ভোজ্য তেলের প্রধান প্রধান ব্র্যান্ডগুলি লিটার প্রতি ১০-১৫ টাকা দাম কমিয়েছে। দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, ১ লিটার ফরচুন রিফাইন্ড সূর্যমুখী তেলের খুচরো মূল্য ২২০ টাকা থেকে কমে ২১০ টাকা হয়েছে। এক লিটার ফরচুন সয়াবিন তেল এবং কাচ্চিঘানি তেলের খুচরো মূল্য ২০৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৯৫ টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার ভোজ্য তেলের উপর আমদানি শুল্ক হ্রাস করায় তেলের দাম কমেছে।
খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তরের যুগ্মসচিব পার্থ এস দাস জানান, দুটি পর্বে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম পর্বে ১৫৬টি জায়গায় এবং দ্বিতীয় পর্বে ৮৪টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান চালানোর সময় প্রথম পর্বে ৫৩টি জায়গা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১২টি জায়গায় কেন্দ্রের মজুত সংক্রান্ত নির্দেশাবলী লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। রাজ্য সরকারগুলিকে ১৯৫৫ সালে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে, এক্ষেত্রে ভোজ্য তেল সরবরাহে যাতে কোনও বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। কেন্দ্র এর আগে অশোধিত পাম তেল, সয়াবিন তেল এবং সূর্যমুখী তেলের উপর মূল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। ভোজ্য তেলের কৃষি সেসও ৫ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। শোধিত সয়াবিন তেল এবং সূর্যমুখী তেলের মূল আমদানি শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। শোধিত পাম তেলের ক্ষেত্রে এই হার ১৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকার এ বছর পর্যন্ত শোধিত পামতেল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক মকুব করেছে।
এছাড়াও, ভোজ্য তেল ও তৈল বীজ মজুত রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আদেশনামা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হবে। সরকারের নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সরকারে সময়োচিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অত্যাবশ্যক পণ্য সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকছে। সচিব আরও জানান, দেশ জুড়ে ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হওয়ায় অন্য স্থান থেকে রেশনে পণ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত লেনদেনের সংখ্যা ৭১ কোটিরও বেশি হয়েছে। এর দরুণ ভর্তুকি-ও দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি টাকারও বেশি। দপ্তর ৭৯ কোটি রেশন কার্ডের তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করেছে। এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে কেন্দ্র ভবিষ্যতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করবে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষাণ প্রকল্প ও শ্রম মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই তথ্য ভান্ডার সহায়ক হবে। শ্রী পান্ডে আরও জানান, খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তর ৪ কোটি ৭৪ লক্ষ ভুয়ো রেশন কার্ডের সন্ধান পেয়েছে এবং সেগুলির বিলোপসাধন করা হয়েছে।
