ওয়েব ডেস্ক; কলকাতা, ১৫ নভেম্বর : মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর শিশু দিবস উপলক্ষে হাসপাতালে এক প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিশু বিভাগের চিকিৎসকেরা আগত শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে যোগ দেন।

উদযাপনে ছিল নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম—ফ্যাশন শো, ম্যাজিক শো, ট্যাটু আর্ট, ফটো বুথ এবং আনন্দঘন কেক কাটার অনুষ্ঠান। শিশুরা পেডিয়াট্রিক চিকিৎসকদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নিয়ে সহজ ভাষায় স্বাস্থ্য–পরামর্শও পায়। সকল অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়, যা উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে।

সেশনগুলিতে চিকিৎসকেরা মৌসুমি সংক্রমণ প্রতিরোধ, সুষম খাদ্যাভ্যাস, উপসর্গের প্রাথমিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো টিকাকরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিশুদের মানসিক সুস্থতার ওপরও জোর দেওয়া হয়—বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে ও পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্যে সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখতে পরামর্শ দেন।
পেডিয়াট্রিক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বিশেষজ্ঞরা মৌসুমি সংক্রমণ, সুষম পুষ্টি ও ঘরে বসে পরিবারের সদস্যদের অনুসরণযোগ্য সহজ প্রতিরোধমূলক যত্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেশনগুলি পরিচালনা করেন শিশু বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা—ডাঃ জেমসি জোস, ডাঃ সায়নটন ভৌমিক, ডাঃ পারমিতা নাথ, ডাঃ রুনা মজুমদার, ডাঃ মণিদীপা দত্ত, ডাঃ রাজীব সিন্‌হা, ডাঃ রানা সাহা এবং ডাঃ বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়।

শীত ঘনিয়ে আসায়, অনুষ্ঠানে ডাঃ সায়ন্তন ভৌমিক, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক পালমোনোলজি, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর বলেন, “এই সিজনে ঠান্ডা-কাশি ও ফ্লু-র মতো অসুখ বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত জলপান, বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো সহজ অভ্যাসই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। অভিভাবকদের উচিত প্রাথমিক উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হওয়া, কারণ দ্রুত চিকিৎসা শিশুদের দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে এবং পুরো মৌসুমে তাদের সুস্থ রাখে।”

ডাঃ মণিদীপা দত্ত, কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিকস, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর বলেন, “আজকের শিশু দিবসের অনুষ্ঠান আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সন্তানদের চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখে শৈশবের আনন্দ আর সরলতাকে নতুন করে অনুভব করার কথা। একইসঙ্গে এটি অভিভাবকদেরও মনে করিয়ে দেয়—পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, সময়মতো টিকাকরণ করা এবং নবজাতকের খাওয়া-ঘুমের অভ্যাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা তাদের সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

একজন অভিভাবক গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শিশুদের জন্য এমন সুন্দর ও মননশীল আয়োজন দেখে সত্যিই দারুণ লেগেছে। আমার সন্তান সব কার্যক্রমে অংশ নিয়ে খুব আনন্দ পেয়েছে, তাকে এতটা খুশি দেখতে সত্যিই মন ভরে গেছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা ছিল বিশেষভাবে উপকারী—তাদের দিকনির্দেশনা, বাস্তবসম্মত পরামর্শ এবং আমাদের উদ্বেগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনার মনোভাব সত্যিই আশ্বস্ত করেছে। আমরা অভিভাবকেরা প্রায়ই বিশ্বাসযোগ্য পরামর্শের খোঁজ করি, আর আজকের সেশন থেকে ঠিক সেইটুকুই পেয়েছি। এককথায়, এটি আমাদের সন্তানদের জন্য যেমন স্মরণীয় ছিল, তেমনি আমাদের জন্যও অত্যন্ত সহায়ক অভিজ্ঞতা।“

অনুষ্ঠানের শেষে শিশু, অভিভাবক, চিকিৎসক ও কর্মীদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণে দিনটি হয়ে ওঠে সত্যিই স্মরণীয়।