দেশে কয়লা সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি। চাহিদা এবং সরবরাহের এই ফাঁক ভরাট করা যাচ্ছে না দেশে উপযুক্ত মানের কোকিং কয়লার অভাবে। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ব্লেন্ডিংএর জন্য উচ্চমানের কয়লা আমদানী করে থাকে। কারণ দেশে এর বিকল্প পাওয়া যায় না। দেশে উচ্চমানের কয়লার ভান্ডার সীমিত।
সরকারের লক্ষ্য, দেশে কয়লার উৎপাদন বৃদ্ধি। তার জন্য আরো কয়লার ব্লক বরাদ্দ করা, জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারকে সহায়তা করতে বলা এবং কয়লা পরিবহণের জন্য রেলের সঙ্গে সঙ্গতি রাখার প্রয়াস। আগামী দিনে চাহিদার দিকে দৃষ্টি রেখে এবং দেশে অপ্রয়োজনীয় আমদানী কমাতে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ২০২৩ – ২৪ এর মধ্যে কয়লা উৎপাদন বাড়িয়ে ১বিলিয়ন টন করার একটি পরিকল্পনা করেছে।
বাণিজ্যিক কয়লা উত্তোলনে ১০০ শতাংশ বিদেশী লগ্নি অনুমোদন করেছে সরকার। কয়লা মন্ত্রকে ২৯.০৫.২০২০ –তে একটি আন্তঃমন্ত্রক কমিটি গঠন করা হয়েছে কয়লা রপ্তানির বিকল্প খুঁজতে। শক্তি মন্ত্রক, রেল মন্ত্রক, জাহাজ মন্ত্রক, বাণিজ্য মন্ত্রক, ইস্পাত মন্ত্রক, অণু,ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক, শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার দপ্তর, সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথোরিটি এবং কয়লা কোম্পানীগুলি এবং বন্দরগুলির প্রতিনিধিরা এই কমিটির সদস্য। এই কমিটির নির্দেশে কয়লা মন্ত্রক একটি আমদানীর তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে কয়লা আমদানীর উপর মন্ত্রকের নজর রাখতে। ঘরোয়া সরবরাহ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কয়লা আমদানীর বিকল্পকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে ২০২৩ – ২৪ এর মধ্যে কয়লা আমদানীর পরিমাণ শূন্যতে নামাতে বলা হয়েছে। ফলে আমদানী কয়লার চাহিদা ঘরোয়া ভাবেই মেটাতে হবে। শুধুমাত্র অত্যন্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমদানী করা যাবে। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডকে একটি কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। সিআইএল একটি নতুন ই-অকশান জানালা খুলেছে। যেখানে শুধুমাত্র কয়লা আমদানীকারকরাই অংশ নিতে পারবে। স্বাধীনভাবে কয়লা উত্তোলনে মেয়াদ বাড়ানো হবে কয়লা আমদানীর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে। ঘরোয়া কয়লা উৎপাদন বাড়াতে যেসব শিল্পের নিজস্ব কয়লা খনি আছে, তাদের এক অর্থ বছরে উৎপাদিত মোট কয়লা অথবা লিগনাইটের ৫০ শতাংশ বেচার অনুমতি দেওয়া হয়েছে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর। এমএমডিআর আইন ১৯৫৭র প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অন্য আইনগুলিরও সংশোধন করা হয়েছে। তবে এই সংস্থান আল্ট্রা মেগা পাওয়ার প্রোজেক্ট সহ নিলামের ভিত্তিতে পাওয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রযোজ্য হবে না।
কয়লা উৎপাদন বাড়াতে সিআইএল নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিয়েছে :
নির্ধারিত সূচি মেনে লক্ষ্যমাত্রার উৎপাদন অর্জনে সময় বেধে চলতি প্রকল্পের রূপায়ণ।
১৫টি নতুন প্রকল্প চিহ্নিত। যার ক্ষমতা বার্ষিক ১৬০ মেট্রিকটন। যেগুলি চালানো হবে মাইন ডেভলপার কাম অপারেটর পদ্ধতিতে।
একটি বাদে সিআইএল –এর সব ভূগর্ভস্থ খনিতে হাতে করে কয়লা তোলার বদলে রাখা হয়েছে সাইড ডিসচার্জ লোডার / লোড হাউল ডাম্প এবং বেল্ট কনভেয়র।
খোলা মুখ খনির কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সারফেস মাইনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ কয়লা খনিতে মাস প্রোডাকশন টেকনোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কয়লা, খনি ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী।
