ডিজিটাল; কলকাতা, ৩ আগস্ট : মেডিকা গ্রুপ অফ হসপিটাল একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ‘ বায়ু দূষণ এবং স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা নিয়ে । এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল এই গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে, এবং এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল (সিসিডিসি), হেলথ এবং এনভায়রনমেন্ট লিডারশিপ প্ল্যাটফর্ম (হেল্প)। এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডঃ অলোক রায়, চেয়ারম্যান, মেডিকা গ্রুপ অফ হসপিটাল। উপস্থিত ছিলেন ডঃ আর কে দাস, কনসালটেন্ট পালমোনারি মেডিসিন, মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল, ডঃ পূর্ণিমা প্রভাকরণ, ডেপুটি ডিরেক্টর, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া, সিনিয়র রিসার্চ সাইন্টিস্ট, সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল (সিসিডিসি) এবং মসরুর আজম, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল।

এক ঘন্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে অভ্যাগতদের জানানো হয় কিভাবে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত কর্মীরা রোগী এবং বৃহত্তর সমাজের সাথে কার্যকরীতার সাথে কমিউনিকেট করে থাকেন। এছাড়াও আলোচনা হয় কিভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত সকলে শিক্ষণের ক্ষেত্রে যুক্ত থাকেন এবং তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব নিয়ে। এছাড়াও পরিষ্কার এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা – যা ভারতে বায়ু দূষণ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

উপস্থিত বক্তা এবং গুণীজনের এই আলোচনায়, ডঃ অলোক রায় বলেন, ” বায়ু দূষণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষ এবং সমাজের উপর প্রভাব ফেলেছে স্বাস্থ্যের দিক থেকে। আমাদের এবং সামনের প্রজন্মের দায়িত্ব হল এই ক্ষেত্রে উন্নতির চেষ্টা করা। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হল, সবাই এই ব্যাপারে সমান সচেতন নয়। এই কনফারেন্স পরিবেশ নিয়ে সচেতন করবে মানুষকে, বিশেষ করে বায়ু দূষণ নিয়ে, এবং একত্রিত ভাবে সামনের দিনে কিভাবে আমরা এর উন্নতি সাধন করতে পারি।”

২০২০ সালে সিসিডিসি একটি গবেষণা করে এবং পাবলিশ করে যার বিষয় ছিল।

‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং নলেজ, অ্যাটিটিউড এবং প্র্যাকটিস অফ হেলথ প্র্যাকটিশনারস টু ওয়ার্ডস হেলথ এফেক্ট অফ অ্যার পলিউশন ইন

ইন্ডিয়া’। এই গবেষণায় দেখা যায় যে সারা পৃথিবীতে, এবং অবশ্যই ভারতে বায়ু দূষণ চিন্তার হয়ে উঠেছে। অনেকেই এখনো তৈরি নন রোগীর ক্ষেত্রে বায়ু দূষণের প্রভাব অনুধাবনে।

এই গবেষণা ছাড়াও ডঃ পূর্ণিমা প্রভাকরন, ডেপুটি ডিরেক্টর, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া, সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোলের সিনিয়র সাইন্টিস্ট, বলেন, “সারা পৃথিবীতেই বায়ু দূষণকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। সারা বিশ্বে মৃত্যুর চতুর্থ সর্বোচ্চ কারণ এটি এবং ভারতে দ্বিতীয় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্যহানি ঘটিয়ে থাকে। দূষিত জায়গায় যেই বাতাস শ্বাস নেওয়া হয়, তার মধ্যে দূষিত পদার্থ থাকে যা আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসকে ব্যাহত করে। এছাড়া এই পদার্থগুলি অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে যেখানে শিশুর কার্ডিও ভাসকুলার স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় যখন গর্ভবতী নারী দূষিত বায়ুর পরিমণ্ডলে থাকে। এছাড়া যখন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারীরা আরো ভালো করে বায়ু দূষণ বোঝার জায়গায় থাকেন এবং শরীরে নেতিবাচক দিকগুলো, তখন কিভাবে এই পরিস্থিতি এড়ানো যায় বা চিকিৎসা হতে পারে, এই ভাবে এগিয়ে সমাজকে সেবা করতে পারেন।”এছাড়া তিনি জানান, স্বাস্থ্য শিল্প সারা বিশ্বের গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণের ৫% অংশের ভাগীদার। তাই সব দিক থেকে সবল ও কার্যকরী স্বাস্থ্যক্ষেত্র থাকা প্রয়োজন যা জলবায়ু নির্ভর বা কেন্দ্রিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করতে পারবে। বলাই বাহুল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে যুঝতে সক্ষম স্বাস্থ্যকেন্দ্র এমন জিনিস দিয়ে যেন তৈরি হয় যেখানে স্বাভাবিক আলো, ঠান্ডা করা, ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা থাকে যা শক্তি, জল, খাবার, প্রকৃতি বান্ধব যাতায়াত, চাহিদা অনুযায়ী ক্রয় এবং মেডিক্যাল জিনিসপত্র এবং ফার্মাসিউটিক্যালস যা প্রকৃতি বান্ধব কারখানায় তৈরি হয়। ভারতে জলবায়ু – স্মার্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন, সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে, যা সকলের আয়ত্তের মধ্যে হবে এবং প্রয়োজনমত আর্থিক সঙ্গতির দিকটি মাথায় রাখবে বৃহত্তর আঙ্গিকে।”

স্বাস্থ্যের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব প্রসঙ্গে ডঃ আর কে দাস, কনসালটেন্ট – পালমোনারি মেডিসিন, মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল, বলেন, “দূষণ এবং আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। বলাই বাহুল্য, আমাদের জীবন এবং গ্রহের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সামনের অনেক দিনের জন্য। স্বাস্থ্যের দিক থেকে বলতে গেলে, দূষণের সরাসরি প্রভাব পরে আমাদের উপর, এবং আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেমন ফুসফুস। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষ মারা যান দূষিত বায়ুর জন্য, যারা দূষিত বাতাসের ক্ষতিকর ধূলিকণার সংস্পর্শে আসেন। এই ক্ষেত্রে ক্রনিক ও ব স্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ যেমন নিউমোনিয়া, স্ট্রোক, হার্টের রোগ। শুরু শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই নয়, এছাড়া স্বাভাবিক গ্রোথ থেমে যাওয়া, দেরিতে বেড়ে ওঠা, খেলাধুলা কম করার সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমা, স্ট্যামিনা কমে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা যেতে পারে, যা বড় হওয়ার পর থাকতে পারে। তাই বায়ু দূষণ যে শুধুমাত্র বয়স্কদের সমস্যা তৈরি করে এমন নয়, বরং শিশুদের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে যদি সঠিক সময়ে দেখা না হয়। দেখা গিয়েছে বাতাসে ক্ষতিকর কণার মধ্যে কার্বন মনোঅক্সাইড, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড। ২০২২ সালে বিশ্ব বায়ু গুণগত মানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে পার্টিকুলার ম্যাটারের পরিমাণ ২.৫ যা কোভিডের পূর্ববর্তী সময়ের মত হয়ে গিয়েছে।”

এরপর মসরুর আজম, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোল, সংক্ষেপে হেলথ এবং এনভায়রনমেন্ট লিডারশিপ প্ল্যাটফর্ম (হেল্প) নিয়ে জানান সকলকে। এছাড়াও ক্লাইমেট এবং হেলথ অ্যার মনিটরিং প্রজেক্ট (চ্যাম্প) নিয়ে সম্যক ধারনা তুলে ধরেন। হেল্প একটি নেটওয়ার্ক যা বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হেলথ অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে তৈরি এবং যার লক্ষ্য হল প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যের বোঝা কমানো এবং প্রকৃতি বান্ধব হয়ে ওঠা। চ্যাম্প হল একটি সচেতনতামূলক প্ল্যাটফর্ম যেখানে বায়ু দূষণ এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে বিশদে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। চ্যাম্প নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান,” এটি এমন এক ধরনের প্রোগ্রাম যেখানে হাসপাতালে টিভি স্ক্রীন ইন্সটল করা থাকবে আর দেখাত থাকবে স্থানীয় বায়ুর গুণগত মান সম্পর্কিত তথ্য, দরকারী পরামর্শ এবং তথ্য, বিশেষ করে পড়াশোনা এবং কমিউনিকেশন কেন্দ্রিক, যাতে সামনের দিনে স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত মানুষ, রোগীরা এবং সামগ্রিক ভাবে সমাজে সচেতনতা গড়ে ওঠে।”