কৃষ্ণ পদার্থ বহুজাগতিক ক্ষেত্রে একটি কাঠামো তৈরি করে যার ওপর ভিত্তি করে ছায়াপথ তৈরি হয়। পরে সেই ছায়াপথের আকৃতির পরিবর্তন হয় এবং একটি ছায়াপথ আর একটি ছায়াপথের সঙ্গে মিশে যায়। কৃ্ষ্ণ পদার্থের বর্ণবলয়ের প্রভাব নাক্ষত্রিক গতির ক্ষেত্রে অনেক সময় বাধার সৃষ্টি করে। এরফলে কোনো কোনো ছায়াপথের কেন্দ্রে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতা থেকে কিভাবে কৃষ্ণ পদার্থের আকৃতি নির্ধারিত হয় বিজ্ঞানীরা সেই বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।
আমাদের বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে কোটি কোটি ছায়াপথ রয়েছে যাদের আকৃতি আলাদা আলাদা এবং এর মাধ্যমে ওইসব ছায়াপথের নক্ষত্রগুলির গতিবেগ নির্ধারিত হয়। আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ౼ মিল্কিওয়ের আকৃতি অনেকটা ডিস্কের মতো। এখানে অনেকগুলি নক্ষত্র ঘোরাঘুরি করছে। মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে আবার চ্যাপ্টা আরেকটি ডিস্ক রয়েছে। এই ডিস্ক আসলে বহু নক্ষত্রের সমাহার যা স্ফীতাকৃতি ধারণ করে। এই স্ফীতির ফলে ছায়াপথের আকৃতির পরিবর্তন হতে পারে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের গবেষক অঙ্কিত কুমার ওই সংস্থার অধ্যাপক মৌসুমি দাস এবং সাংহাই ঝিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ সন্দীপ কুমার কাটারিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় ছায়াপথের নানা পরিবর্তন। গবেষকরা দেখেছেন নক্ষত্রগুলি এক জায়গায় জড়ো হয়ে যখন ঘন আকৃতি ধারণ করে তখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাঙন সৃষ্টি হয়। তার থেকে বর্ণবলয় তৈরি হয়। এরফলে সেখানে একটি বিশেষ স্ফীত অঞ্চল তৈরি হয়। কৃষ্ণ পদার্থের সেই বর্ণবলয় থেকে বিভিন্ন ছায়াপথের অভ্যন্তরে কি ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে ব্যাঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ অ্যাস্ট্রো ফিজিক্সের গবেষকরা সেটি নিয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা এ সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ ‘মান্থলি নোটিসেস অফ রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’তে প্রকাশ করেছেন।
