ডিজিটাল: ২১ মার্চ: কেন্দ্রীয় শিল্প, বাণিজ্য, উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য, গণবন্টন ও বস্ত্র মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ওএনডিসি) ই-কমার্স ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করে তুলবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সমান অধিকার পাবেন এবং তাঁদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে। গোয়েল পিলানির বিআইটিএস আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠান লঞ্চপ্যাড – শিল্পোদ্যোগীদের শীর্ষ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে ভাষণ দিচ্ছিলেন। মন্ত্রী এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী নানাজী দেশমুখকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দেশমুখের জীবন ও কর্ম বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিআইটিএস-এর ইতিহাসের কথা মন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবক তৈরি করেছে। এখান থেকে যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা ঝুঁকি নিতে জানেন। বিআইটিএস – এর প্রাক্তনীরা চলচ্চিত্র শিল্প, লেখালেখির কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সমাজকর্মী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। বিআইটিএস – এর মূলমন্ত্র ‘জ্ঞান হল সর্বোচ্চ শক্তি’, যা আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিআইটিএস – এর ছাত্রছাত্রীরা ভারতের মোট ইউনিকর্নের ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। গোয়েল বলেন, পরীক্ষাগার, মেন্টারশিপ, ইনকিউবেটর এবং তহবিলের যোগান দেওয়া নতুন শিল্পোদ্যোগগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিআইটিএস – এ এই উপাদানগুলির সব কটিই পাওয়া যায়। তিনি অন্যান্য কলেজগুলিকে বিআইটিএস – এর মডেল অনুসরণ করতে পরামর্শ দেন। এর ফলে, ছাত্রছাত্রীরা ভবিষ্যতে কর্মপ্রার্থীর পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হয়ে উঠবেন। গোয়েল জানান, শিল্পোদ্যোগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য দপ্তর পাঁচ বছর আগে দেশে মাত্র ৫০০টি নতুন শিল্পোদ্যোগ বা স্টার্টআপ সংস্থার নিবন্ধন করেছিল। বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারেরও বেশি স্টার্টআপ সংস্থা রয়েছে। ৯০টিরও বেশি ইউনিকর্ন দেশে সক্রিয়।

ইউএসবি-র উদ্ভাবক, ভদোদরার অজয় ভাটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি ধারণা যে কোনও মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। ভাট তথ্যকে আদানপ্রদানের উপযোগী করে তোলার জন্য যে প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন, তা এর আগে কেউ ভাবেননি। এখন দেশে বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে কেনা হচ্ছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে, এমনকি ইউপিআই – এর মাধ্যমে জিনিসপত্রের দাম মেটানো হচ্ছে। তিনি শিল্পোদ্যোগীদের ব্যর্থ হবার আশঙ্কা থেকে নিজেদের মুক্ত থাকতে বলেন। শিল্পোদ্যোগীদের চলার পথে ব্যর্থতা একটি অঙ্গ, তাই একে হাল্কাভাবে নিতে হবে। মন্ত্রী, ব্যর্থ হলে আশা না ছেড়ে নতুন ধারনা নিয়ে আরও বেশি উদ্যমী হবার পরামর্শ দেন।

ফিনটেক, এগ্রিটেক এবং মার্কেটপ্লেসের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে ভারত আজ এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন মন্ত্র আইটি + আইটি = আইটি’র কথা উল্লেখ করে শ্রী গোয়েল বলেন, এটিই ভারতের ভবিষ্যৎ, যেখানে তথ্য প্রযুক্তি (ইনফো টেকনোলজি) + ভারতীয় মেধা (ইন্ডিয়ান ট্যালেন্ট) = আগামী দিনের ভারত (ইন্ডিয়া টুমোরো)। আগামী দিনে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পকে ১ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল অর্থের শিল্পে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইন্ডিয়া স্ট্যাক, হেলথ স্ট্যাক, লজিস্টিক স্ট্যাক, কোউইন – এর মতো ডিজিটাল পরিকাঠামো ভারত তৈরি করেছে। আগামী দিনে হয়তো ভারতের ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করা নিয়ে গবেষণা হবে। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে জানান, কোচি, লক্ষ্ণৌ, সোনেপথের মতো ছোট ছোট শহরগুলি থেকে ন্যাশনাল স্টার্টআপ অ্যাওয়ার্ড বিজেতারা উঠে আসছেন। এর থেকে এটা স্পষ্ট যে, স্টার্টআপ ব্যবস্থাপনায় গণতন্ত্রের ছোঁয়া লেগেছে। তিনি আশা করেন, এইসব স্টার্টআপ সংস্থাগুলি আগামী দিনে শিল্পজগতকে নেতৃত্ব দেবে। মন্ত্রী তরুণ শিল্পোদ্যোগীদের দেশকে সমৃদ্ধ করে তুলতে এবং ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের চাহিদা পূরণে সাহায্য করতে আহ্বান জানান।