পপি পারমিতা ( ঢাকা, বাংলাদেশ)

১৪ তম পর্বের পর……

এই অবধি পড়ে বইটি মুখের ওপর থেকে ভাঁজ করে সরিয়ে রাখল রতন। বইটি পারুলের সংগ্রহে ছিল। আজ হাতের কাছে পেয়ে এক পৃষ্ঠা পড়ে ফেলল রতন। বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। মাঝে মাঝে মনে হয়, জীবন এক জেলখানা। কয়েদী আমি দিন গুনে যাই।

পারুল আজ দু’বছর হলো তাঁর বাবার বাড়ি। পারুলকে কখনো বুঝতে পারেনি রতন। কী নেই রতনের? তবু কেন পারুল সুখী হয়নি?

মায়ের একটি কথা মনে পড়ে গেল রতনের,

‘ধুইলে কয়লা

না যায় ময়লা।”

সেই শিশু বয়সে কথাটির ভাবার্থ বোঝেনি রতন। মানুষও তবে কয়লা হয়।

খাঁচার বন্দি পাখি ডানা ঝাপটানো ভুলে যায়। খাঁচার দরজা খুলে দিলেও পাখি কি আর সেই আগের মতো উড়তে জানে!

একদিন গুটিগুটি পায়ে কন্যা জ্যোতি এলো বাবার

কাছে। বাবা, তুমি তোমার জীবনে এগিয়ে যাও, নতুন করে শুরু করো আবার।

রতন, নিজের তেরো বছরের মেয়েটিকে আঁকড়ে ধরে কেঁদে ফেলল। কবে এতো বড় হয়ে গেল আমার মেয়েটি। আমার জ্যোতি।

সমাপ্ত…..