ডিজিটাল; ১৬ ডিসেম্বর: ভারত তার প্রয়োজনীয় অশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে থাকে। সেজন্য দেশের পেট্রোল ও ডিজেলের দামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এদের দামের যোগ আছে। পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যেমন অশোধিত তেলের দাম, এক্সচেঞ্জ রেট, শিপিং চার্জ, অভ্যন্তরীণ মাশুল, তৈল শোধনাগারের লাভ, ডিলার কমিশন, কেন্দ্রীয় কর, রাজ্যের ভ্যাট এবং অন্যান্য উৎপাদন খরচ।
যদিও ২০২০-র নভেম্বর থেকে ২০২২-এর নভেম্বরের মধ্যে ভারতের অশোধিত তেলের গড় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০২ শতাংশ (৪৩.৩৪ ডলার থেকে ৮৭.৫৫ ডলার), ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম এই একই সময়ে বেড়েছে যথাক্রমে ১৮.৯৫ শতাংশ এবং ২৬.৫ শতাংশ। বিশ্ব বাজারে তেলের সর্বোচ্চ মূল্য সত্ত্বেও ২০২২-এর ৬ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। ফলে, ২০২১-২২-এ যেখানে কর-এর আগে লাভের পরিমাণ ছিল ২৮,৩৬০ কোটি টাকা, সেখানে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা – আইওসিএল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল-এর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অর্থাৎ, চলতি অর্থ বছরে সব মিলিয়ে লোকসান হয়েছে ২৭,২৭৬ কোটি টাকা।
ভারতীয় ক্রেতাদের বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধির থেকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার দু’বার ২১ নভেম্বর, ২০২১ এবং ২২ মে, ২০২২ কেন্দ্রীয় শুল্ক কমিয়েছে যাতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম কমেছে যথাক্রমে ১৩ টাকা এবং ১৬ টাকা প্রতি লিটারে। কেন্দ্রীয় শুল্কের এই হ্রাসের ফলে কোনও কোনও রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর তাদের ভ্যাট কমিয়েছে।
লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে একথা জানান পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ এস পুরী।
