শহরাঞ্চলীয় স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে অনুদান দিতে চারটি রাজ্যকে ৬৮৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বরাদ্দ দপ্তর এই অর্থ দিয়েছে। চারটি রাজ্যকে দেওয়া ৬৮৫ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে ৪৯৪ কোটি টাকা, গুজরাটকে ১১০ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, ঝাড়খণ্ডকে ৭৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা এবং মিজোরামকে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শহরাঞ্চলীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। অনুদানের এই অর্থ মৌলিক নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নের কাজে খরচ করা হয়। তবে, অঞ্চল-ভিত্তিক চাহিদাসাপেক্ষে বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নেই এই অর্থ সদ্ব্যবহার করা হয়। মূলত ছোট শহরগুলিতে যেখানে জনসংখ্যা ১০ লক্ষের নিচে, সেই শহরগুলির ক্ষেত্রে এই অনুদান দেওয়া হয়। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলিও অনুদানের অর্থ পেয়ে থাকে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশন শহরাঞ্চলীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে। একটি হল দিল্লি ও শ্রীনগর বাদে ১০ লক্ষের অধিক জনসংখ্যা-বিশিষ্ট শহরাঞ্চল এবং দ্বিতীয়টি হল ১০ লক্ষের কম জনসংখ্যা-বিশিষ্ট শহর এলাকা। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অনুদানের মধ্যে ১০ লক্ষের কম জনসংখ্যা-বিশিষ্ট শহরগুলিকে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নে এবং বাকি ৫০ শতাংশ টায়েড গ্র্যান্ট বা যৌথ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। মৌলিক অনুদান হিসেবে দেওয়া অর্থ অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাসাপেক্ষে খরচ করা হয়। তবে, অনুদানের এই অর্থ বেতন বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্ম খাতে খরচ করা যায় না। পানীয় জল সরবরাহ, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, জল পরিশোধন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে কাজে লাগানো যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে ১০টি কাজের দিনের মধ্যে শহরাঞ্চলীয় স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে ট্রান্সফার বা হস্তান্তরিত করতে হয়। এক্ষেত্রে ১০ দিনের বেশি বিলম্ব হলে সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে অনুদান সহ সুদের অর্থ শহরাঞ্চলীয় স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে মেটাতে হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গকে শহরাঞ্চলীয় স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলির জন্য অনুদান হিসেবে ২০৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।