আগামী রবিবার থেকে রাজ্যে জারি বিধি নিষেধ আগামী ১৫ দিনের জন্য। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এর ঘোষণা। এর আগেই রাজ্যের তরফে বেশ কিছু বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছিল। এবার সেই বিধি নিষেধ আরও কঠোর করা হল। রাজ্যের নতুন সিদ্ধান্তে স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাস, ট্যাক্সি অটো, প্রাইভেট গাড়ি, রাজ্যের মধ্যেকার ও রাজ্যের বাইরে যায় এমন গাড়ি, মেট্রো , ফেরি সার্ভিস জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য পণ্য পরিবহনের গাড়ি আগামী ১৫ দিন বন্ধ করে দেওয়া হল। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বার হওয়া বন্ধ থাকছে। রবিবার ভোর ৬টা থেকে ৩০ মে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত রাজ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে এই কঠোর বিধিনিষেধ জারি হচ্ছে। এই নিয়ম না মানলে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে আইন ভঙ্গকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। চিকিৎসকরা রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার নবান্ন থেকে বলেন, “করোনা রুখতে প্রশাসন আরও কিছুটা কঠোর বিধি জারি করছে। এর ফলে নতুন করে সব সরকারি, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকছে। তবে জরুরি পরিষেবা, যেমন ওষুধ, সংবাদমাধ্যম,দুধ ইত্যাদির জন্য যান চলাচল জারি থাকবে। স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক, আইটিআই, অঙ্গনওয়াড়ি বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকছে বাস, অটো, ট্যাক্সি, মেট্রো, ফেরি চলাচল। তবে জরুরি পরিষেবার জন্য ট্যাক্সি, অটো চলতে পারে। বাজার, মুদি দোকান, মাংসের দোকান খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে ১০ তা পর্যন্ত।তবে খোলা থাকছে পেট্রল পাম্প, অটো মেরামতের দোকান, রান্নার গ্যাসের বন্টন কেন্দ্র। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মিষ্টির দোকান খোলা থাকছে। খোলা থাকছে ওষুধ ও চশমার দোকান। বন্ধ থাকছে পার্ক, চিড়িয়াখানা, অভয়ারণ্য। তবে এসবের রক্ষণাবেক্ষণ চলবে। রাজ্যের মধ্যে ও রাজ্যের বাইরে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত রকম পরিবহণ বন্ধ থাকছে। বন্ধ থাকছে সমস্ত রকমের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক জমায়েত। বিয়ে বাড়িতে ৫০ জনের বেশি জমায়েত হবে না। সৎকার অনুষ্ঠানে ২০ জনের বেশি উপস্থিতি নয়। চিকিৎসা দ্রব্য ছাড়া সব শিল্প কারখানা বন্ধ থাকছে। ব্যাঙ্ক খোলা থাকছে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত। এটিএম খোলা থাকবে। চা বাগানে ৫০% হাজিরা মান্যতা পাচ্ছে । এছাড়া জল, বিদ্যুৎ, বিপর্যয় মোকাবিলা, টেলিকম, ইন্টারনেট, সংবাদ মাধ্যম খোলা থাকবে।”
একনজরে দেখে নিন কী হতে যাচ্ছে :
১. এই ১৫ দিন খোলা থাকবে রাজ্যের সমস্ত পেট্রল পাম্প।
২. চা বাগান কাজ করবেন ৫০ শতাংশ কর্মী, জুট মিলে কাজ করতে পারবেন ৩০ শতাংশ শ্রমিক।
৩. বিয়ে বাড়ির আয়োজন করলেও উপস্থিত থাকতে পারবেন ৫০ জন অতিথি। সৎকারের কাজে থাকতে পারবেন ২০ জন।
৪. সমস্ত ই-কমার্স, হোম ডেলিভারি চালু থাকবে। এছাড়াও সুইগি-জোম্যাটোর মতো অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপও ব্যবহার করা যাবে।
৫. ওষুধ, চশমা, ইলেকট্রনিক্সের দোকানগুলি খোলা থাকবে।
৬. রাজ্যের সমস্ত জায়গায় মিষ্টির দোকান খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা।
৭. মুদির দোকান, খুচরো দোকান, জরুরি পণ্য এবং বাজার চালু থাকবে সকাল ৭ টা থেকে ১০টা পর্যন্ত।
৮. সরকারি-বেসরকারি সমস্ত অফিস বন্ধ থাকলেও খোলা থাকবে চিকিৎসা এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠান।
৯. চিকিৎসা এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সবার জন্য থাকবে গণপরিবহণে ছাড়।
১০. ওষুধ, চিকিৎসার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কারখানা বা সংস্থা খোলা থাকবে।
১১. জরুরি পরিষেবায় চালু থাকবে ট্যাক্সি।
১২. পণ্য পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জরুরি পণ্য পরিবহণে রয়েছে ছাড়।
১৩. বন্ধ থাকছে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস।
১৪. বন্ধ থাকছে স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক, আইটিআই, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র।
