উত্তরপ্রদেশে আত্মনির্ভর ভারত গঠনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি এবং বিদ্যুতিন প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর উত্তরপ্রদেশের পঞ্চম সফটওয়্যার পার্কের উদ্বোধন করে একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উত্তরপ্রদেশ ক্রমশই প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি জানান, প্রযুক্তি মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। দেশের যুবকরা উন্নত জীবনযাপনের জন্য প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে। যার ফলে, ডিজিটাল ইকো ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, এর ব্যতিক্রম নয় উত্তরপ্রদেশও।

চন্দ্রশেখর ললিতপুরের এক কৃষক ঘরের মেয়ে, নবম শ্রেণীর ছাত্রী নন্দিনী কুশওয়াহার-এর একটি উদাহরণ তুলে ধরে জানান, ইন্টেলের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বৈদ্যুতিন ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য যুব সম্প্রদায়ের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নন্দিনী সাফল্যের ছাপ রেখে গেছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের যৌথ নেতৃত্বে গত ৫ বছরে কিভাবে এই রাজ্য উন্নতির পথে হেটেছে। তিনি বলেন, এরাজ্যে আইনশৃঙ্খলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার সহজে ব্যবসার নীতি গ্রহণ করার ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বিমানবন্দর, রেল পথ, সড়ক পথ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ জলপথগুলির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠায় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাণিজ্য ক্ষেত্রে গতি এসেছে।

চন্দ্রশেখর বলেন, এসটিপিআই মিরাট কেন্দ্রটি সফওয়্যার রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য এবং প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এসটিপিআই-এ নাম নথিভুক্ত কেন্দ্রগুলি ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ৩১৩ কোটি টাকার মূল্যের তথ্য প্রযুক্তি রপ্তানি করেছে। উল্লেখ্য, ২৫ হাজার ৭৪ বর্গফুটের বিশাল এলাকা জুড়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে এই এসটিপিআই গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে এসটিপিআই মিরাটে অত্যাধুনিক ইনকিউবেশন সুবিধা সহ ৩ হাজার ৭০৪ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এই সুবিধাগুলি তরুণ প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপদের বিশেষ উৎসাহিত করে তুলবে। পাশাপাশি ভারত আগামী দিনে বিশ্বের বৃহত্তম সমস্যা মোকাবিলার উদ্ভাবনী সফটওয়্যার পণ্য বিকাশের দেশ হিসেবে উঠে আসবে। এমনকি এই অঞ্চলের যুব সম্প্রদায়ের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও বিশেষ সহায়তা পালন করবে।