প্রবীর আচার্য

তৃতীয় পর্বের পর……

বিকেল হলেই পাড়ার ছোটো ছোটো মেয়েরা খুব উৎসাহের সঙ্গে ভাঁজো নাচের জন্য বাড়িতে সাজুগুজু করে চলে আসে। প্রথমে শুরু হয় তাদের নাচ দিয়ে। পরিচালনার দায়িত্ব নেন বয়স্ক মহিলারা। এবার ঢোল বাজতে থাকে আর ভাঁজোকে ঘিরে কচি কচি মেয়েরা নাচতে থাকে। মাঝে মাঝে ঢোল থামিয়ে ছড়া কাটতে থাকে পাড়ার বয়স্ক মহিলারা। এরকম একটা প্রচলিত ছড়া হল-

“ভাঁজো লো কলকলানি মাটি লো সরা,

আমার ভাঁজোর গলায় দেবো পঞ্চফুলের মালা। পঞ্চফুল থোকা থোকা গলায় পড়েছি, ইঁদুরের মাটি দিয়ে শ’সপেতেছি।”

কচিকাঁচাদের নাচের পর শুরু হয় আইবুড়ো মেয়েদের নাচ। ওই সময় ঢুলিকে পিছন ফিরে বসতে হয়। দরকার হলে ঢুলির চোখ বেঁধে দেওয়া হয়। সে ঢোল বাজাবে কিন্তু কিছু দেখতে পাবে না। আর অন্য পুরুষ মানুষদের তো ভাঁজোতলায় যাওয়া নিষেধ। আসল মজাটা শুরু হয় সন্ধ্যার আঁধার নামলে। যুবতি বৌ-ঝি এবং বয়স্কা মহিলারা নাচ শুরু করে। ভাঁজো তলায় আলো জ্বালা নিষেধ। অন্ধকার যত ঘন হবে নাচের জৌলুস তত বাড়বে। কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী মুখআঁধারি রাত, মানে রাতের প্রথম দিকটায় চাঁদ ওঠে না। তারার আবছা আলোয় যুবতি মেয়েরা উদ্দাম নাচ শুরু করে। ঢোলের তালে তালে নাচ চলে, ঢুলি ঢোল বাজাবে পিছন ফিরে মুখ নিচু করে। তার কিছু দেখার অধিকার নেই।

নাচতে নাচতে মেয়েরা মাঝে মাঝে বলে উঠবে ছক্কা মারো। সঙ্গে সঙ্গে ঢুলি জোরে ঢোল বাজিয়ে তেহাই মেরে থেমে যাবে। তখন বয়স্ক মহিলারা ছড়া কাটবে। সে ছড়ায় অশ্লীলতার চূড়ান্ত করা হয়। ছড়া শেষ হলেই আবার বাজনার তালে তালে নাচ। নাচতে নাচতে মেয়েরা একে অপরের কাপড় চোপড় ধরে টানাটানি করবে, খুলে ফেলবে। তাতেও হুঁশ থাকে না। অন্ধকারে আর কে কী দেখবে। কে কার গায়ে ঢলে পড়ে তার ঠিক নেই।

ক্রমশ…..