ডিজিটাল; ২৩ মার্চ: ব্যাংক বেসরকারিকরনের বিরুদ্ধে বারবার পথে নেমেছে ব্যাংক কর্মচারীরা। লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনে কিছু ব্যাংক বেসরকারি করণের প্রস্তাব না উঠলেও ব্যাংক অফিসাররা আশংকা প্রকাশ করছেন যে আগামী দিনে অধিবেশনে এই বেসরকারিকরণের প্রস্তাব উঠবে।
অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশন এর রাজ্য সম্পাদক ও ভারতের অগ্রণী ব্যাংক আন্দোলনের একদম সামনের সারির নেতা সঞ্জয় দাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংক বেসরকারিকরণ হলে দেশের অর্থনীতি ভীষণভাবে ধাক্কা খাবে। এছাড়া বিগত দিনের থেকে বর্তমান সময়ে বেকারত্ব যেভাবে বেড়েছে সেই পরিমানও আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। যেভাবে বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ না করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন অথবা আর্থিক ঘোটালা করছেন তার জেরে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সমস্যায় পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। উদাহরণ হিসাবে উনি বেশ কিছুদিন আগে নীরব মোদীর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের 13000 কোটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ও এই কিছুদিন আগে স্বাধীন ভারতের সর্ববৃহৎ (23000 কোটি টাকা)ব্যাংক তছরুপের পুরোধা এ বি জি শিপইয়ার্ডের মালিক ঋষি আগরওয়াল এর নাম উল্লেখ করেন। এই সমস্ত টাকা সাধারণ মানুষের খেটে রোজগার করা টাকা। একের পর এক সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ হচ্ছে আর মানুষকে তার মূল্য দিতে হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় ব্যাংক গুলিকে বেসরকারিকরণ এর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ২২ শে মার্চ হাজরা মোড়ে এক পথসভার আয়োজন করে AIBOC । সেখানে প্রায় ৪০০ জন ব্যাংক অফিসার যোগ দেন এবং তার সাথে ছিলেন সাধারণ মানুষও।
সঞ্জয়বাবু দাবি করেন সাধারণ মানুষ এবং শুধুমাত্র সরকারি ব্যাংক নয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাদের আন্দোলন কে সমর্থন জানাচ্ছেন ও তাদের এই আন্দোলনের পাশে আছেন। আগামী দিনে সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বেসরকারিকরণের কোন প্রস্তাব আনলে তার গুরুতরভাবে বিরোধিতা করা হবে এবং সারা দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে সাধারণ মানুষকে নিয়ে বলেও জানিয়েছেন সঞ্জয় দাস।
আজকের সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য সভাপতি সুভোজ্যতি চট্টোপাধ্যায় , আসিতাভ কুন্ডু ও কৃষ্ণেন্দু ভট্টাচার্য।