কলকাতা; ৩০ সেপ্টেম্বর: ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের ‘ইন্ডিয়া-এআই মিশন’-এর অধীনে কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে রাজ্যগুলির সাথে প্রথম আঞ্চলিক ‘ইন্ডিয়া-এআই কর্মশালা ও পর্যালোচনা সভা’র আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও সিকিমের ঊর্ধ্বতন সরকারি আধিকারিক এবং প্রতিনিধিরা যোগ দেন। সভায় রাজ্যস্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইন্ডিয়া-এআই মিশনের সাথে সহযোগিতার পথ চিহ্নিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এই কর্মশালাটি সরকার-থেকে-সরকার পর্যায়ে আয়োজিত প্রস্তাবিত আঞ্চলিক আলোচনা-সভার একটি সিরিজের সূচনা। এর লক্ষ্য হল, রাজ্যগুলিকে ইন্ডিয়া-এআই মিশনের সক্ষমতা ও উদ্যোগের কাজে লাগিয়ে এআই-চালিত শাসনব্যবস্থা, জনসেবা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়া।
IndiaAI মিশন একটি সামগ্রিক জাতীয় এআই পরিমণ্ডল গড়ে তুলছে, যার আওতাভুক্ত ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ডেটাসেট, এআই কম্পিউট (কম্পিউটেশনাল ক্ষমতা), উদ্ভাবন, সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (উৎকর্ষ কেন্দ্র), অ্যাপ্লিকেশন বা পরিষেবা-ভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি, ‘ফিউচার স্কিলস’ (ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা) এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য এআই। স্থানীয় অগ্রাধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং ডেটা সম্পদের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় স্তরের এই সক্ষমতাগুলিকে ক্ষেত্র-ভিত্তিক ও নাগরিক-কেন্দ্রিক অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলি অনুঘটক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে, আঞ্চলিক কর্মশালার এই সিরিজটিকে ইন্ডিয়া-এআই মিশন এবং রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে মত বিনিময়ের একটি সুসংহত মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হ’ল – রাজ্যস্তরের প্রয়োজনীয়তা বোঝা, পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার পথ সুগম করা।

রাজ্য ও IndiaAI-এর মধ্যে সহযোগিতার প্রেক্ষাপট

উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ দেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈব-প্রযুক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী। ইন্ডিয়া-এআই মিশনের লক্ষ্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে বিশেষ বক্তব্য রাখেন ইন্ডিয়া-এআই এবং ইউআইডিএআই-এর সিইও শ্রী সৌরভ বিজয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত শাসনব্যবস্থা, রাজ্য-স্তরের উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈব-প্রযুক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, “এই কর্মশালাটি পাঁচটি রাজ্যকে একটি সাধারণ মঞ্চে একত্রিত করছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের প্রস্তুতি পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা যায়। এ ধরনের মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশকে কেবল প্রযুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি সংস্থা, শিক্ষাজগৎ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, স্টার্টআপ এবং সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর পরিমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়।”

IndiaAI-এর প্রধান অগ্রাধিকারগুলির উপর নিবিড় আলোচনা

IndiaAI মিশনের সাতটি স্তম্ভ এবং রাজ্যগুলির সাথে সম্পৃক্ততার কাঠামোর ওপর আলোচনার পর, কর্মশালায় এমন সব বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন আয়োজন করা হয়েছিল, যেগুলি রাজ্য পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:

‘ফিউচারস্কিলস’ স্তম্ভ: এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, দক্ষতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, রাজ্য পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পের মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়; পাশাপাশি ‘ডেটা ল্যাবস’-এর সর্বশেষ তথ্য এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‘এআই-সেল’ স্তম্ভ: এতে ডেটাসেট, এআই মডেল ও সম্পদ, ডেটা আদান-প্রদান, রাজ্যের নিজস্ব ডেটাসেট এবং রাজ্য পর্যায়ে এআই গ্রহণ ও তাতে অবদান রাখার সুযোগের ওপর আলোকপাত করা হয়। আলোচনায় সরকারি সংস্থা, শিক্ষাঙ্গন, C-DAC এবং ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ পরিমণ্ডলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

স্টার্টআপ অর্থায়ন স্তম্ভ: এতে স্টার্টআপ পরিমণ্ডল, রাজ্য-ভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, অংশগ্রহণের উপায় এবং ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলার অগ্রগতির বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়।

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ: বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই-এর সম্ভাব্য ব্যবহার, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও দায়িত্বশীল এআই সমাধান গ্রহণের বিষয়গুলিকে এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এআই ট্যালেন্ট মিশন এবং রাজ্য সহায়তা: প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজ্য-স্তরে সহায়তার বিষয়গুলি এতে পর্যালোচনা করা হয়; এতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্র, শিক্ষাঙ্গন এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি পরিমণ্ডলের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্টার্টআপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইকোসিস্টেমের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়, যা এআই সক্ষমতা ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ক্ষেত্রে বর্তমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ করে দেয়। বোধবুদ্ধিসম্পন্ন এআই: দায়িত্বশীল ও নৈতিকতার সঙ্গে যাত্রা শীর্ষক একটি বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।

আঞ্চলিক আলোচনা থেকে রাজ্যের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা

রাজ্য সরকারগুলির সাথে ‘IndiaAI’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালার যে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কলকাতায় এই আয়োজন তার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোর লক্ষ্য হল, সরকার-থেকে-সরকার পর্যায়ে একটি সুসংহত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে রাজ্যের অগ্রাধিকারগুলিকে IndiaAI-এর বিভিন্ন সম্পদ ও উদ্যোগের সাথে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে – এআই-কোষ, ডেটা ও এআই ল্যাব, সেন্টার অফ এক্সিলেন্স, এআই কম্পিউট ও পরিকাঠামো, ফিউচারস্কিলস, ফেলোশিপ এবং এআই অ্যাপ্লিকেশন।
এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য, কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বরং রাজ্য-ভিত্তিক ব্যবহারের ক্ষেত্র, ডেটাসেট, পরিকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা, দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করা।
কলকাতার এই কর্মশালায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও সিকিমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সহযোগিতামূলক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলা;

এই আঞ্চলিক কর্মশালা সিরিজটি ভারতের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি যৌথ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ‘IndiaAI মিশন’ – এর আওতায় গড়ে ওঠা জাতীয় সক্ষমতার সাথে বিভিন্ন রাজ্যের অগ্রাধিকার, প্রতিষ্ঠান, ডেটাসেট, দক্ষ জনবল এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে এই কর্মসূচি এগিয়ে চলার সাথে সাথে, ‘ইন্ডিয়া-এআই মিশন’ এবং রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং সমন্বিত বাস্তবায়নের একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকার, শিল্পক্ষেত্র এবং শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া-এআই মিশন’ ভারতের এআই পরিমণ্ডলকে শক্তিশালী করে তুলছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *