ওয়েব ডেস্ক; ২৩ অক্টোবর : কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্পিয়ার কোর-এর যৌথ উদ্যোগে নাগাল্যান্ডের দিমাপুরে সফলভাবে দু’সপ্তাহের ‘মিডিয়া ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম ২০২৬’ আয়োজিত হযল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুবসমাজকে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট নির্মাণ, ডিজিটাল মাধ্যমে কাহিনি উপস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল সংযোগের ক্ষেত্রে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সৃজনশীল অর্থনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে SRFTI-এর উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিতে যুবসমাজের জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে কাহিনি উপস্থাপনা, বিশেষ করে, রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়ে বিশ্বাসযোগ্য এবং আকর্ষণীয় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির পারদর্শিতা গড়ে তোলা গেলে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রসার আরও শক্তিশালী হবে, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় উন্নয়নের কাহিনিগুলি বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হবে। বিশেষত, যেসব অঞ্চলে দায়িত্বশীল সংযোগ এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রয়োজন, সেখানে এহেন উদ্যমের তাৎপর্য অপরিসীম।
আজমেরা আরও বলেন, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও গণমাধ্যম শিক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রথাগত শ্রেণীকক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে SRFTI প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুবসমাজের দক্ষতা বিকাশে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের জন্য তিনি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযোজনা, ডিজিটাল মাধ্যমে কাহিনি উপস্থাপনা এবং গণমাধ্যম প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগকে আর-ও সহায়তা করা এবং ভারতের সৃজনশীল পরিমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগী হিসেবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
এই কর্মসূচিতে সেন্ট জোসেফ বিশ্ববিদ্যালয়, পাটকাই খ্রিস্টান কলেজ এবং তেতসো কলেজের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য, প্রাসঙ্গিক এবং আকর্ষণীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরিতে স্থানীয় যুবসমাজের দক্ষতার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়। স্থানীয় বাস্তবতা নথিবদ্ধ করা, তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এবং দায়িত্বশীলভাবে তা উপস্থাপনের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল ভুয়ো তথ্যের মোকাবিলা করা, স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্য কাহিনি তুলে ধরা এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে বৃহত্তর দর্শকসমাজের কাছে স্থানীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, জনসমাজের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কাহিনি পৌঁছে দেওয়া।
এই সহযোগিতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে হাতে-কলমে গণমাধ্যম প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও প্রসারিত করার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে SRFTI এমন এক নতুন পেশাদার প্রজন্ম গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে, যাঁদের মধ্যে থাকবে সৃজনশীল নৈপুণ্য, দায়িত্ববোধ এবং ভারতের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের যাত্রাকে কার্যকরভাবে তুলে ধরার উদ্যম। একই সঙ্গে তাঁরা দেশের ক্রমবর্ধমান সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও অবদান রাখবেন।
