ওয়েব ডেস্ক; ২ অক্টোবর: ভারতীয় নৌবাহিনী ও ফরাসি নৌবাহিনীর মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক সামুদ্রিক মহড়া ‘বরুণ’ – এর ২৪তম সংস্করণে অংশগ্রহণের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘ত্রিশূল’ ফ্রান্সের তুলোঁ বন্দরে এসে পৌঁছায়।
ফরাসি নৌবাহিনী জাহাজটিকে আনুষ্ঠানিক ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুট’-এর মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। বন্দর-পর্যায়ের কার্যক্রমে পেশাগত, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার লক্ষ্য ছিল উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে সামুদ্রিক সম্পর্ক ও পেশাগত বন্ধন সুদৃঢ় করা। আইএনএস ত্রিশূল-এর কমান্ডিং অফিসার ফরাসি নৌবাহিনীর অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ রিয়ার অ্যাডমিরাল মাকারা ওক – এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ফরাসি নৌবাহিনীর উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কমান্ডিং অফিসার, অন্যান্য আধিকারিক ও নাবিকরা মার্সেই – এর মাজার্গস যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিশ্বযুদ্ধের সময় আত্মবলিদানগকারী ২০৫ জন ভারতীয় সৈনিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পেশাগত কার্যক্রমের মধ্যে ছিল একে অপরের জাহাজে পরিদর্শন এবং পরিচালনগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, যা উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বা ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
আইএনএস ত্রিশূল জাহাজে একটি সাংস্কৃতিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে ভাইস অ্যাডমিরাল (অবসরপ্রাপ্ত) লরেন্ট ইসনার্ড, তুলোঁ-র ডেপুটি মেয়র, ফরাসী নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ভলিবল ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়। জাহাজের কর্মীরা ফরাসী নৌবাহিনীর জাহাজ ‘শার্ল দ্য গল’, ‘ফরবিন’ এবং ‘লা ফায়েত’ পরিদর্শন করেন এবং বিমানবাহী রণতরীর কার্যক্রম, এভিয়েশন সুবিধা ও জাহাজে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
সমুদ্র-পর্যায়ে, আইএনএস ত্রিশূল ফরাসি নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল এফডিএ ফরবিন, এফএলএফ লা ফায়েত এবং এসএনএ সুফ্রেন জাহাজ, পাশাপাশি এনএইচ৯০ হেলিকপ্টার এবং আটলান্টিক ২ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট। সাবমেরিন প্রতিরোধী ও সমুদ্রতলে যুদ্ধ-মহড়া, সরাসরি গোলাবর্ষণ এবং হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং – এর মতো কার্যক্রম উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে পরিচালনগত সমন্বয়, পারস্পরিক কার্যক্ষমতা ও যৌথ কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
তুলোঁ বন্দরে আইএনএস ত্রিশূল-এর এই সফর ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক অংশীদারিত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি, সমুদ্র পরিসরে সহযোগিতা, পারস্পরিক কার্যক্ষমতা এবং পেশাগত আদান-প্রদান জোরদার করার ক্ষেত্রে উভয় নৌবাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *