ওয়েব ডেস্ক; ৩ অক্টোবর : বন্যপ্রাণীর অবৈধ পাচার এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী-থেকে তৈরি পণ্যের বেআইনি ব্যবসা দমনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত তিনটি পৃথক অভিযানে বেশ কিছু সামগ্রী ও প্রাণী উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে – সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হাতির দাঁতের সামগ্রীসহ মোট চারটি হাতির দাঁতের জিনিস, একটি চিতাবাঘের চামড়া, দুটি জীবিত প্যাঙ্গোলিন, ৩ কেজি বাঘের হাড় এবং বাঘের দুটি দাঁত। এই তিনটি অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হাতির দাঁতের অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযানে, ডিআরআই-এর আধিকারিকরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ ফাঁদ বা ‘ডিকয় অপারেশন’ পরিচালনা করেন। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সূক্ষ্ম কারুকাজ করা হাতির দাঁতের সামগ্রী সহ চারটি হাতির দাঁত অবৈধভাবে বিক্রির প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করা। অভিযানের ফলে বন্যপ্রাণী-সংক্রান্ত ওই চারটি সামগ্রী উদ্ধার করা হয় এবং এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। উল্লেখ্য, ‘বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২’-এর ৪৯বি ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া হাতির দাঁত বা তা দিয়ে তৈরি সামগ্রী নিজের কাছে রাখা এবং এগুলোর কেনাবেচা বা ব্যবসা করা আইনত নিষিদ্ধ। পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উদ্ধারকরা সামগ্রী ও আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২৯ সেপ্টেম্বর পরিচালিত আরেকটি গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক অভিযানে, মহারাষ্ট্রের গোন্দিয়া জেলার পুরাদা গ্রামের কাছে ডিআরআই আধিকারকরা নজরদারির মাধ্যমে দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। তারা একটি চিতাবাঘকে হত্যা করে তার চামড়া বিক্রির চেষ্টা করছিল বলে সন্দেহ করা হয়। এই অভিযানের ফলে একটি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়। চিতাবাঘ ‘বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২’-এর প্রথম গোষ্ঠীতে। তালিকাভুক্ত একটি প্রাণী। উদ্ধারকরা চামড়াটি উক্ত আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আটক দুই ব্যক্তি ও বাজেয়াপ্ত করা চিতাবাঘের চামড়াটি গোন্দিয়ার দেওরিয়া রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মহারাষ্ট্রের আল্লাপল্লী বনাঞ্চলে ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিচালিত একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযানে ডিআরআই, বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (ডব্লুসিসিবি, মুম্বাই) এবং ইউএসটিআর অ্যান্টি-পোচিং ইউনিট – সবাই মিলে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয় ব্যক্তিকে আটক করে। এই অভিযানের ফলে একটি জীবিত পূর্ণবয়স্ক প্যাঙ্গোলিন, একটি জীবিত প্যাঙ্গোলিন শাবক, ৩ কেজি বাঘের হাড় এবং বাঘের দুটি দাঁত উদ্ধার করা হয়। ‘বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২’-এর আওতায় সংরক্ষিত এবং এই আইনের প্রথম ধারায় তালিকাভুক্ত প্যাঙ্গোলিনগুলো ‘সিআইটিইএস’-এর পরিশিষ্ট-১ এর অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে এদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ। একইভাবে, বাঘ এবং বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশও ‘বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২’-এর প্রথম তফসিলের অধীনে সংরক্ষিত।

তদন্ত এবং পরবর্তী তল্লাশির মাধ্যমে বাঘের শরীরের অংশবিশেষ অবৈধভাবে শিকার, নিজের দখলে রাখা, পরিবহন এবং বিক্রির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য ‘বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২’-এর বিধান অনুযায়ী দুটি জীবিত প্যাঙ্গোলিন, বাঘের হাড়, বাঘের দাঁত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই তিনটি অভিযান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আইন প্রয়োগকারী বিশেষ সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত প্রজাতি ও সেগুলোর বিভিন্ন অংশের অবৈধ দখল, পরিবহন এবং বিক্রয়ের চেষ্টার পর্যায়ে বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রগুলোকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ডিআরআই-এর অব্যাহত প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *