ওয়েব ডেস্ক; ১৬ জুন : ভারত সরকারের অগ্রণী স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগগুলি এবং তৃণমূল স্তরে সেগুলির বাস্তবায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB), কলকাতা, খড়্গপুরে সাংবাদিক কর্মশিবির বাৰ্তালাপ’-এর আয়োজন করে ১৫ জুন ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের চিফ মেডিকেল অফিসার অফ হেলথ (CMOH) বা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, ড. সৌম্য শঙ্কর সারেঙ্গী ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY)-এর সুবিধা এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান’ (PMSMA)-এর আসন্ন বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন।
ড. সারেঙ্গী জানান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৩২ লক্ষ বাসিন্দা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে, আর সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
তিনি এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্যতার মানদণ্ড এবং সুবিধাভোগীদের বিভাগগুলি ব্যাখ্যা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, যোগ্য পরিবারগুলি তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলির মাধ্যমে প্রতি বছর পরিবার প্রতি ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (নগদবিহীন) স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবে।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে বড় চিকিৎসার খরচের বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, যোগ্য সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবং সচেতনতা বাড়াতে ১৫ জুন থেকে ‘জন কল্যাণ শিবির’-এর মাধ্যমে আয়ুষ্মান ভারত নথিভুক্তকরণ বা এনরোলমেন্টের সুবিধা উপলব্ধ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্য কর্মী (আশা/ASHA কর্মী) এবং কমন সার্ভিস সেন্টার (CSCs)-গুলি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ চালাতে এবং নাগরিকদের নথিভুক্তকরণ ও নথিপত্রের কাজে সহায়তা করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে, কমিউনিটি বা সম্প্রদায় স্তরে সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে।
ড. সারেঙ্গী জানান, জেলায় আয়ুষ্মান ভারত পরিষেবাগুলি প্রাথমিকভাবে ১ জুলাই থেকে দুটি নির্ধারিত মডেল হাসপাতালের মাধ্যমে চালু হবে এবং পরবর্তীতে পরিষেবা প্রদানের পরিধি ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সুবিধাভোগীরা এই প্রকল্পের অধীনে তালিকাভুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিজেদের পকেট থেকে কোনও খরচ না করেই চিকিৎসা সুবিধা লাভ করতে পারবেন।
মাতৃস্বাস্থ্যের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে সিএমওএইচ বা জেলার মুখ্য স্বস্থ্য আধিকারিক ঘোষণা করেন, গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা শক্তিশালী করার জন্য রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান’-ও বাস্তবায়ন করা হবে।
এই কর্মসূচির অধীনে, হবু মায়েরা পাবেন:
- বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা
- ডায়াগনস্টিক বা রোগনির্ণয় পরিষেবা
- প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র
- নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং কাউন্সেলিং
গর্ভবতী মহিলাদের চিহ্নিত করতে, তাঁদের নিবন্ধন সহজতর করতে এবং সমগ্র গর্ভাবস্থার সময়কালে তাঁদের গাইড করতে আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালাবেন।
সময়োপযোগী চিকিৎসা এবং উন্নত মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা (high-risk pregnancies) চিহ্নিতকরণ এবং পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
ড. সারেঙ্গী জানান, যোগ্য মায়েরা ১০০ টাকার সহায়তা পাবেন, আর আশা কর্মীদের একটি সফল প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব (হাসপাতালে প্রসব) এবং সংশ্লিষ্ট মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা সহজতর করার জন্য ৬০০ টাকার ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জেলাজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা এবং মাতৃস্বাস্থ্যের সূচকগুলির উন্নতি সাধনে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ফ্রন্টলাইন বা সামনের সারির কর্মী এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য সচেতনতা, সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলি যাতে প্রতিটি যোগ্য পরিবারে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর একটি ইন্টারেক্টিভ বা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে অধিবেশনটি শেষ হয়।
