ওয়েব ডেস্ক; ২২ আগস্ট: প্রশাসনিক সংস্কার ও জন অভিযোগ বিভাগ “কেন্দ্রীয় স্তরে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য সরকারি প্রক্রিয়ার পুনর্গঠনে প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক ২০তম জাতীয় ই-গভর্নেন্স ওয়েবিনার আয়োজন করে। ওয়েবিনারটিতে পৌরোহিত্য করেন DARPG-এর যুগ্ম সচিব অবনীশ কুমার মিশ্র।

ওয়েবিনারে ‘জাতীয় ই-গভর্নেন্স পুরস্কার ২০২৬’-এর ‘কেন্দ্রীয় স্তরের উদ্যোগ’ বিভাগে দুটি জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী উদ্যোগ তুলে ধরা হয় — কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের ‘এগ্রিস্ট্যাক’ এবং উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের ‘ই-জাগৃতি’। এই উদ্যোগগুলি দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি-সক্ষম পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সহজলভ্যতা এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবার উন্নতি ঘটাতে পারে।

এগ্রিস্ট্যাক: কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ডঃ প্রমোদ কুমার মেহেরদা স্বর্ণ পুরস্কার বিজয়ী ‘এগ্রিস্ট্যাক’ উদ্যোগটি উপস্থাপন করেন। এগ্রিস্ট্যাক হলো একটি ডিজিটাল গণপরিকাঠামো উদ্যোগ, যার লক্ষ্য দেশজুড়ে কৃষি শাসন ও পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।

তিনটি মূল নথিভুক্তিকে ঘিরে এগ্রিস্ট্যাক গঠিত —এর কৃষক নথিভুক্তি, বপন করা ফসলের নথিভুক্তি এবং ভূ-নির্দেশিত গ্রামের মানচিত্র কৃষক শনাক্তকরণ, জমির মালিকানা এবং বপন করা ফসলের একটি ডিজিটাল ভিত্তি প্রদান করে। এই উদ্যোগটি একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুসরণ করে। নথিভুক্তিগুলি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দ্বারা তৈরি, মালিকানাধীন এবং পরিচালিত হয় এবং জাতীয় কৃষি পরিমণ্ডল জুড়ে আন্তঃকার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

৬৪৮টি জেলার ৩১.৩৬ কোটি প্লটে ডিজিটাল শস্য জরিপ করা হয়েছে। ১০ কোটিরও বেশি স্বতন্ত্র কৃষক আইডি তৈরি করা হয়েছে এবং ৫.৫২ লক্ষ ভূ-নির্দেশিত গ্রামের মানচিত্র সম্পন্ন হয়েছে। কৃষক আইডিগুলোকে পিএমএফবিওয়াই, পিএম আশা, মহাডিবিটি এবং এমএসপি সংগ্রহের মতো প্রধান কর্মসূচিগুলোর সঙ্গেও সংযুক্ত করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি-চালিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে, সরকারি প্রকল্পগুলির পরিষেবা প্রদান সহজ করতে পারে এবং খণ্ডিত ও হস্তচালিত প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে পারে, এগ্রিস্ট্যাক তা দেখায়।

ই-জাগৃতি: ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের উপ মহা নির্দেশক শ্রী জি. ময়িল মুথু কুমারান, রৌপ্য পুরস্কার বিজয়ী ‘ই-জাগৃতি’ উদ্যোগটি উপস্থাপন করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি কীভাবে গ্রাহকদের বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, তা এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

ই-জাগৃতি জাতীয়, রাজ্য এবং জেলা গ্রাহক কমিশনে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল পরিমণ্ডল স্থাপন করে। এই প্ল্যাটফর্মটি খণ্ডিত পুরোনো পদ্ধতিগুলির জায়গায় একটি মানসম্মত, সার্বিক ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ আনে। অনলাইন ফাইলিং, ডিজিটাল যাচাই, পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, শুনানি, আদেশ এবং মামলার নিষ্পত্তি – সবক্ষেত্রেই এটি কার্যকর।

ওয়েবিনারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, জেলা ও স্থানীয় সংস্থা, বিভিন্ন প্রশাসন এবং ডিএআরপিজি মিলিয়ে ১২০০-রও বেশি আধিকারিক অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারের শেষে, ডিএআরপিজি-র উপসচিব হরি কে ভাট ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এই ওয়েবিনার সরকারি পরিষেবা প্রদানকে রূপান্তরিত এবং দক্ষ, স্বচ্ছ, সহজলভ্য ও নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-সক্ষম সরকারি প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *