ওয়েব ডেস্ক; ২২ আগস্ট: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন; বিশেষ করে রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতির ওপর এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ পঙ্কজ কুমার সিং-ও উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের নজরদারি ব্যবস্থা ও রোগের পরিস্থিতি, ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা-সদৃশ অসুস্থতা’ ও ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ’-এর প্রবণতা, পরীক্ষা ও গবেষণাগার-ভিত্তিক নজরদারি এবং ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলির প্রস্তুতির বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। শ্রী নাড্ডা সতর্কতা, কঠোর নজরদারি ও আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেন। পাশাপাশি, তিনি ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রবণতার ওপর বিশেষ নজর রাখা এবং সংক্রমণের কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নজরে এলে, তা দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

দিল্লির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলির প্রস্তুতির বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়; এর মধ্যে ছিল হাসপাতালের শয্যা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, অক্সিজেন-সহায়ক শয্যা, ভেন্টিলেটর, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের সুবিধা এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামের প্রাপ্যতা। বিশেষ করে যাদের ক্রিটিক্যাল কেয়ারের প্রয়োজন, সেইসব রোগীর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা এবং নিরবচ্ছিন্ন রেফারেল ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর মন্ত্রী বিশেষ জোর দেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার পাশাপাশি বর্তমান নজরদারি ও পরীক্ষাগার নেটওয়ার্কের কার্যকর ব্যবহারের আহ্বান জানান।

নাড্ডা জনসচেতনতা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত ও হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো প্রতিরোধমূলক অভ্যাসের ওপরও জোর দেন। পাশাপাশি, তিনি পরামর্শ দেন যে, যাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর, শ্বাসকষ্ট রয়েছে কিংবা অন্য কোনও লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, তাঁরা যেন অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

একইসঙ্গে, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো ঋতু-ভিত্তিক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি নিরন্তর ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। নাড্ডা রাজ্য সরকারগুলির কাছে একটি সক্রিয় ও প্রস্তুতি-কেন্দ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান; বিশেষ করে ঋতুজনিত রোগ প্রতিরোধ, বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে পৌর প্রতিনিধি এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

স্থানীয় সংস্থাগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে রাজধানীতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণের হার বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঠিক ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক প্রচার জোরদার করার ক্ষেত্রে সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মন্ত্রক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, হাসপাতাল, গবেষণাগার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে। এর লক্ষ্য হল, ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ১এন১ বা H1N1 সহ)-র ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময় মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।

এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্য সলিল শ্রীবাস্তব, অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য) ডঃ রাকেশ গুপ্ত, দিল্লির স্বাস্থ্য সচিব রূপেশ কুমার ঠাকুর এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *