ওয়েব ডেস্ক; ৩০ জুলাই : দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলি যাতায়াত ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বিকাশের মেরুদণ্ডস্বরূপ। এর মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়। তবে, সড়ক নিরাপত্তা ও মহাসড়কগুলির সুষ্ঠু পরিচালনায় অন্যতম প্রধান ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হল মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাগুলিতে জবরদখল।
অবৈধ নির্মাণ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অস্থায়ী শেড, প্রভৃতি জবরদখলে রাস্তার চলাচলের পথকে সংকীর্ণ করে তোলে, দৃষ্টিপথ ব্যাহত হয়, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের সমস্যা দেখা যায়। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। চালকদের হঠাৎ লেন পরিবর্তন করতে, সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা দেখা যায়। জবরদখলের ফলে মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি পরিসেবার কাজ এবং ভবিষ্যতে পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের কাজে সমস্যা দেখা দেয়।
জনসাধারণের যাতায়াতে সড়কপথের নিরাপত্তা ও সড়ক পথকে বাধামুক্ত রাখার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক এবং জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ- এনএইচএআই দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ‘রাইট অফ ওয়ে’ বা সড়কের জন্য নির্ধারিত জায়গা পুনরুদ্ধার, যান চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনি বিধান ও সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি মেনে এই অভিযানগুলি পরিচালিত হয়।
জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ, পিআইইউ রাজকোট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
এনএইচএআই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রায় ৬৯৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক জরিপ করেছে। অবৈধ বাণিজ্যিক সংযোগ ও রাস্তার মাঝে অননুমোদিত ফাঁক বা ‘মিডিয়ান কাট’-এর বিরুদ্ধে ১,৪০৩টি নোটিশ জারি করেছে। এগুলি এমন ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি যা দ্রুতগতির মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৩৬১টিরও বেশি অবৈধ সংযোগ ও জবরদখল অপসারণ করেছে এবং ১৫০টি অননুমোদিত মিডিয়ান গ্যাপ বা ফাঁক স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বড় আকারের এই অভিযানের মাধ্যমে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সোমনাথ-দ্বারকা মহাসড়ক, বিশেষ করে বারদিয়া এবং অনেস্ট হোটেল থেকে হাতি চক পর্যন্ত কয়েকশো অংশে অননুমোদিত জবরদখল সফলভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলি কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এগুলো সড়কগুলিতে জন নিরাপত্তার লক্ষ্যে গৃহীত । অবৈধ দখল উচ্ছেদে দৃষ্টিপথের পুনরুদ্ধার ও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়, এবং জরুরি পরিসেবা সুনিশ্চিত ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে। একই সাথে, সড়কের জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা সুরক্ষার মাধ্যমে জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো রক্ষিত হয়। সরকারি বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং অনাকাঙ্খিত বিলম্ব ছাড়াই মহাসড়ক উন্নয়নের পথও তাতে সুগম হয়।
