ওয়েব ডেস্ক; ৫ জুলাই : একটি নতুন কম দামের সেন্সর অত্যন্ত কম ঘনত্বে শ্বাসযন্ত্রের জ্বালা, হাঁপানি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের ক্ষতির জন্য বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) গ্যাস শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

SO2 হল একটি বিষাক্ত বায়ু দূষণকারী গ্যাস। যা সাধারণত যানবাহন এবং শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত হয়। এর সামান্য সংস্পর্শেও এলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। স্বাস্থ্যের উপর এর বিরূপ প্রভাব ফেলার আগে এটি শনাক্ত করা খুবই কঠিন। জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক সময়ে SO2 স্তর পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা খুবই ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রেই এই গ্যাস শনাক্ত করাও যায় না।

এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অন্তর্গত ব্যাঙ্গালুরুতে অবস্থিত স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ন্যানো অ্যান্ড সফ্ট ম্যাটার সায়েন্সেস (CeNS)-এর বিজ্ঞানীরা একটি সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুটি ধাতব অক্সাইড – নিকেল অক্সাইড (NiO) এবং নিওডিয়ামিয়াম নিকেলেট (NdNiO3) একত্রিত করে একটি সেন্সর তৈরি করেছেন।

এই উপাদানের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য ড. এস. আঙ্গাপ্পেনের নেতৃত্বে দল একটি পোর্টেবল প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে, যা সঠিক সময়ে সেন্সরে SO2 পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

এই প্রোটোটাইপ-টিতে একটি সরল সীমাভিত্তিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে, যার সূচক দেখা যাবে। সবুজ সঙ্কেতকে নিরাপদ, হলুদকে সতর্ক এবং লালকে বিপদ হিসেবে বোঝা যাবে। ফলে কোনো বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ছাড়াই এই সেন্সর ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সহজে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা শিল্পাঞ্চল, শহরাঞ্চল এবং যে স্থানে ক্রমাগত বাতাসের গুণমানের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন রয়েছে সেখানেই এই সেন্সর খুব সহজেই ব্যবহার করা যাবে। এতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।

ড. শালিনী তোমর, নিখিল এন. রাও, ড. মহম্মদ সাফির নাদুভিল কোভিলকথ, ড. নীনা এস. জন, ড. শতদীপ ভট্টাচার্য এবং প্রফেসর সেউং চিওল লি-এর সহযোগিতায় এই সেন্সরের নকশা তৈরি করেছেন বিষ্ণু জি নাথ। গবেষণাটি একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।